বিধানসভায় পেশ হল বহুচর্চিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বদলি বিল
আজ ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় পেশ হল বহুচর্চিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বদলি বিল। এই বিল পাশ হলে ‘পরিকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নতমানের’ শিক্ষা পৌঁছে দিতে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে অন্যত্র বদলি করতে পারবে রাজ্য। যদিও একাংশের বক্তব্য, আইনকে হাতিয়ার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। পালটা অধ্যাপকদের একাংশের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে ‘রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়’ একশ্রেণির অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মৌরসীপাট্টা কায়েম করে রেখেছেন। ফলে এই বিল জরুরি।
উল্লেখ্য, রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা থাকবে এই বিলে। যাঁরা দীর্ঘদিন কলকাতা বা অন্য বড় শহরের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপনা করেছেন, তাঁদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও পড়াতে যেতে হবে। এই নীতি শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও কার্যকরী।
গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ বিল আনার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর বুধবার যাদবপুরের এক সভা থেকেও তিনি নিশ্চিত করেন, বিলটি মন্ত্রিসভায় পাশ করিয়ে ইতিমধ্যেই তা রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তবে এই বিল বিধানসভায় পেশ হতেই শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নতুন আইনের আড়ালে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষমতা ও স্বশাসন খর্ব করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। বদলির নামে মূলত প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরদের সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত। বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন এবং নিয়ম আলাদা। সেখানে নিয়োগ করেন স্বয়ং উপাচার্য। স্বাভাবিকভাবে এই বিল শিক্ষামহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় হয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রশ্ন উঠেছে এই বদলি কি তাদের পারস্পরিক সম্মতি নিয়ে করা হবে নাকি সরকারের ইচ্ছেমতো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বদলি করা হবে। বিল পাশ হলেই এই বিভ্রান্তি দূর হবে।