ব্রেকিং

রাজ্যজুড়ে ‘স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান’, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বিরাট কর্মযজ্ঞ, গুরুত্ব ডেঙ্গু প্রতিরোধেও

Sunday, 6 September 2026 at 14:25 Superadmin
Share
রাজ্যজুড়ে ‘স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান’, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বিরাট কর্মযজ্ঞ, গুরুত্ব ডেঙ্গু প্রতিরোধেও


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের মিশন ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’। এই মিশনকে সফল করতে বহুবারই প্রধানমন্ত্রীকে দেশবাসীর কাছে আবেদন জানাতে দেখা গেছে। ২০২৬ সালের তৃণমূল সরকারের দুর্নীতিরাজকে উৎখাত করে বাংলার শাসনব্যবস্থার হাল ধরেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার বাংলাকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিয়ে বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। যার নাম ‘স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান।’ পুর ও নগরোন্নন দফতরের উদ্যোগে তিনদিনের এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি চালানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী পোস্টে লিখেছেন, ‘পরিচ্ছন্ন পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্যে আমাদের সংকল্প ‘স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তর আয়োজিত ৩ দিনের রাজ্যব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযানে ২২টি জেলার ১২৮টি পুরসভার ১৬০০-র বেশি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বচ্ছতা অভিযান চলেছে; কর্মসূচিতে; :- ৬,০৬৫টি অবরুদ্ধ নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে :- ১,৬০৮টি জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়েছে :- ৪,৫১১টি রাস্তার ধারে জমে থাকা জঞ্জাল সাফাই করা হয়েছে :- ২৭,৩৭৮টি জায়গায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় :- বাজার, হাট, স্কুল-কলেজ, সরকারি দফতর ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চত্বরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়: * ১,১০৬টি বাজার ও হাট * ১,৩০৪টি স্কুল ও কলেজ চত্বর * ৫৪৪টি সরকারি দপ্তর চত্বর * ৩১৫টি হাসপাতাল চত্বর :- ৩৫,০০০+আইইসি (IEC) সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে :- ১১৮টি NGO ও সিভিল সোসাইটি সংগঠন পরিচ্ছন্নতার এই মহা অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে শুধু পরিষ্কার করার নয়, এখন সময় সম্মিলিত ভাবে নিজেদের পারিপার্শিক এলাকা পরিষ্কার রাখার সংকল্প নেওয়ার। আসুন, নিজেদের সুস্থ্য রাখতে, পরিবেশ কে পরিচ্ছন্ন রাখতে এই 'স্বচ্ছতা অভিযান'কে সর্বাত্মক জনআন্দোলনে পরিণত করি। প্রতিটি পাড়া, প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি নর্দমা এবং প্রতিটি জনবহুল স্থানকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমরা সকলে কাঁধে তুলে নিই। পরিচ্ছন্ন বাংলা গড়ার এই লড়াইয়ে আমরা প্রত্যেকেই অংশীদার। আমাদের সংকল্প, আবর্জনামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ। পরিষ্কার থাকুন। সুস্থ থাকুন। পশ্চিমবঙ্গের গর্ব বজায় রাখুন। স্বচ্ছতার সংকল্প হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।’

সেই মতো এই পরিচ্ছন্ন অভিযান চালানো হয়েছে রাজ্যের ২২টি জেলার ১২৮টি পুরসভার ১৩০০-র বেশি ওয়ার্ডে। একযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনদিনে ৬,০৩৫টি অবরুদ্ধ নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১৬০৮টি জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা ও জঞ্জাল সরানো হয়েছে। রাস্তার ধারে জমে থাকা ৪৫১১টি জঞ্জালের স্তূপও পরিষ্কার করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ২৭,৩৭৮টি জায়গায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের আওতায় থাকবে স্কুল-কলেজ, বাজার-হাট, সরকারি অফিস ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে এই সাফাই অভিযান চালানো হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ১,৩০৪টি স্কুল-কলেজ, ৫৪৪টি সরকারি দফতর, ১,১০৬টি বাজার-হাট, ৩১৫টি হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার করা হয়েছে।


সাফাই অভিযানের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ৩৫ হাজারের বেশি জনসচেতনামূলক সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই অভিযানে ১১৮টি এনজিও ও সিভিল সোসাইটি সংগঠন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। রাজ্যবাসীর কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান শুধু সরকারি উদ্যোগের উপর নির্ভর না করে নিজেদের পাড়া, রাস্তা, নর্দমা ও জনবহুল স্থান পরিষ্কার রাখা দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে হবে।

ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে রাজ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নাগরিকদের সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্যে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ চালু করা হয়েছিল। রাজ্যের সরকারের তরফে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব সহকারে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।