ব্রেকিং

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগেই মোদি পুতিন বৈঠক! কী নিয়ে আলোচনা? নজর কূটনৈতিক মহলের

Tuesday, 8 September 2026 at 20:14 Superadmin
Share
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগেই মোদি পুতিন বৈঠক! কী নিয়ে আলোচনা? নজর কূটনৈতিক মহলের

ভারত রাশিয়ার বন্ধুত্ব কারুর অজানা নয়। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার পরেও ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্বে চিড় ধরেনি। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নয়াদিল্লিতে মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্র পেশকভ মঙ্গলবার এই কথা জানিয়ে বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রনেতা একাধিক বিষয় আলোচনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পরমাণু সহযোগিতা, প্রস্তাবিত ‘সুখোই এসইউ-৫৭ ও রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের উপর মার্কিন শুল্ক আরোপ ও নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়ে আলোচনা হবে।’ 


প্রসঙ্গত, দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ব্রিকসের ১৮ তম সম্মেলন। গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানে রাজধানী বিশকেকে ‘শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (এসসিও)-এর ২৬তম শীর্ষসম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে পুতিনকে ব্রিক্‌সে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোদির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভারত সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুতিন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেড় বছর আগেই ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ‘এফ-৩৫ লাইটনিং২’ যুদ্ধবিমান বিক্রির বার্তা দিয়েছিলেন নয়াদিল্লিকে। তা ফিরিয়ে পুরনো সামরিক সহযোগী রাশিয়ার তৈরি ‘সুখোই এসইউ-৫৭’ (‘ফেলন’ নামে যা পরিচিত)-এর উপরেই মোদী সরকার ভরসা রাখে কি না, তা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুধু বিক্রি নয়, ইতিমধ্যে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেল্‌থ ফাইটার জেট এসইউ-৫৭-এর যৌথ উৎপাদন এমনকি, প্রযুক্তি হস্তান্তরেও প্রস্তাব এসেছে মস্কোর তরফে। পাশাপাশি ভারতে নতুন রুশ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন সহ অসামরিক পরমাণুক্ষেত্রের সম্প্রসারণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ডলার-নির্ভরতা কমিয়ে টাকা ও রুবলের ব্যবহার বাড়ানো। সেইসঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তেলের উপর শুল্কের বিষয়টি মোদি ও পুতিনের অন্যতম আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে। 

আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেদিকেই থাকবে নজর।