হাউস ওয়াইফ’ থাকলে ‘হাউস হাসবেন্ড’ও নয় কেন? পর্যবেক্ষণ মাদ্রাজ হাইকোর্টের
বন্দে মাতরম সংবাদ, চেন্নাই: স্ত্রী ঘর সামলাবেন, আর স্বামী উপার্জন করবেন, সমাজের এই চির পরিচিত চেনা পরিচিত ছক এবার ভাঙার সময় এসেছে!
‘হাউস ওয়াইফ’ থাকতে পারলে, ‘হাউস হাসবেন্ড’ও নয় কেন? এক চিকিৎসক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল মাদ্রাজ হাই কোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ।
বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি এম ডি সুমতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, পরিবার সমাজের মৌলিক একক। তাই পরিবারের জন্য আয় করা এবং ঘর-সংসার পরিচালনা, দুই দায়িত্বকেই সমান সম্মান দেওয়া উচিত।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, অনেক মহিলা কখনও কখনও বিয়েকে নিজেদের পেশাগত উন্নতির পথে বাধা হিসেবে মনে করে থাকে। স্বামীরা সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নিলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ‘হোমমেকার’ এই শব্দটি লিঙ্গনিরপেক্ষ সেইসঙ্গে গৃহস্থালির কাজের অর্থনৈতিক মূল্যও বিচারব্যবস্থায় স্বীকৃত।
মামলাটি তিরুভান্নামালাইয়ের এক চিকিৎসক দম্পতিকে ঘিরে। ২০১১ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দু’জনেই পুদুচেরির শ্রী বেঙ্কটেশ্বর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ২০১২ সালে তাঁদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। দেখাশোনার জন্য স্ত্রী কিছু সময় তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন, স্বামী কার্ডিওলজিতে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান। ২০১৬ সালে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়।
২০২০ সালে কোভিড-পর্বের পর তাঁরা ফের একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। পরে দাম্পত্য সম্পর্কে মতবিরোধ তৈরি হয়। স্ত্রী দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আবেদন করেন, অন্যদিকে স্বামী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। থেনির ফ্যামিলি কোর্টে দু’টি আবেদনই খারিজ হয়ে যায়, দু’পক্ষ আলাদা করে হাই কোর্টে আপিল করেন। পরে দু’জনেই বিবাহ বিচ্ছেদে রাজি হন