তিনতলার জায়গায় পাঁচতলা! অবৈধ নির্মাণ রুখে কড়া অ্যাকশন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর
তৃণমূল জমানায় যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে বেআইনি নির্মাণ। ঘাসফুল শিবিরের ছাতার তলায় দুর্নীতি ক্রমেই পাহাড়প্রমাণ রূপ নিয়েছিল। তৃণমূলের অরাজকতার জমানা শেষ কিন্তু বিষঝাঁড় এখনও রয়ে গেছে!
এবার অবৈধ বহুতল নির্মাণ রুখে দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। অভিযুক্তদের গাছের গুঁড়িতে বেঁধে রেখে তাঁকে খবর দেওয়ার নিদান দিলেন বিজেপি বিধায়ক। তার এই কড়া অ্যাকশনে খুশি এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গত, বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতা আসার পর পরই পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অবৈধ নির্মাণ নিয়ে কড়াবার্তা দেন। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র থুতু ফেলা, মলমূত্র ত্যাগ করে অপরিচ্ছন্ন করলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে জানিয়ে দেন।
রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা নিয়ে চলতি মাসের পয়লা তারিখ থেকে নতুন নিয়ে চালু হয়েছে রাজ্যে। কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সরকারের সেই নীতি মেনেই এবার নিয়ম বহিভূর্তভাবে নির্মাণকাজ রুখে দিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক। এদিন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী শুধু কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি, বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পুরসভার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশও দিলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক।
কড়া মেজাজে কৌস্তভ প্রশ্ন করেন, কীভাবে রাস্তা আটকে G+ বহুতল নির্মাণ হয়ে গেল রাতারাতি? এদিন কৌস্তভ সরাসরি তৃণমূলের দিকে জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এই বিল্ডিং একটা পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের ভার নিতে পারবে? আশপাশে কোনও জায়গা ছাড়া হয়নি। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওই নির্মাণ নিয়ে কৌস্তভ দাবি করেন, জায়গাটিতে বড়জোর তিনতলা তৈরির অনুমতি পাওয়ার কথা। কিন্তু সেই জায়গায় পাঁচতলা কাঠামো উঠেছে।
কৌস্তভের স্পষ্ট বার্তা অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। তাঁর নাম করে অবৈধ নির্মাণের জন্য যদি কেউ টাকা চায় তাহলে তাদের বেঁধে রেখে তাঁকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন কৌস্তভ। ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক বলেন, আমাদের সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও টলারেন্স দেখানো হবে না। কেউ যদি আমার নাম করে বলে যে সব সেটিং হয়ে গেছে বা কৌস্তভ দা টাকা চেয়েছে, যারা বলবে, তাদের ধরুন। কোনও মোটা গুঁড়িওয়ালা গাছ বা লাইট পোস্টে বেঁধে রেখে আমায় খবর দিন।