ব্রেকিং

কালীঘাট মন্দিরে মায়ের গয়না কোথায়? খোঁজ নেই ভল্টের চাবির! আদালতের দ্বারস্থ সাবর্ণ রায়চৌধুরীর পরিবার

Tuesday, 8 September 2026 at 16:10 Superadmin
Share
কালীঘাট মন্দিরে মায়ের গয়না কোথায়? খোঁজ নেই ভল্টের চাবির! আদালতের দ্বারস্থ সাবর্ণ রায়চৌধুরীর পরিবার

ফের খবরের শিরোনামে নামে কালীঘাট মন্দির। কালীঘাট মন্দির ঘিরে অরাজকতার অভিযোগ। এই অভিযোগ তুলল সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। মন্দিরে মা কালীর গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। দেবীর অলঙ্কার ও মন্দিরের সম্পত্তি রাখা একটি রাষ্টায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভল্টের চাবির কোনও খোঁজ মিলছে না। প্রায় চার দশক ধরে কোনও হদিশ নেই মন্দিরের ধন-রত্নের। এই অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ। চার দশক অর্থাৎ- ১৯৮০ সাল থেকে প্রায় ৪৬ বছর ধরে।

রায়চৌধুরী পরিবারের দাবি, এত দীর্ঘ সময়ে ভল্টে থাকা গয়না ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসেব বা নিয়মিত যাচাই হয়েছে কি না তাও স্পষ্ট নয়। ফলে ভক্তদের দেওয়া দান ও দেবীর মূল্যবা অলঙ্কার নিরাপদে আছে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিচারকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিল। জেলা বিচারক পদাধিকার সূত্রে কালীঘাট মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান। এই কারণেই তার কাছে এই অভিযোগ করা হয়েছে।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিলের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর দাবি, দেবীর সম্পত্তি ও গয়না সংরক্ষণের জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে লকার আছে। কিন্তু সেই লকারের চাবি ১৯৮০ সাল থেকেই কোনও খোঁজ মিলছে না। মালিকের সম্পত্তির হিসেব রাখার দায়িত্বে থাকা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো হিসেব হয়নি। মন্দিরের সম্পত্তি নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ চলছে বলে অভিযোগ। এর ফলে ভক্তরাও আশাহত। দীর্ঘদিন ধরে লকারের চাবির খোঁজ না পাওয়া, মন্দির সম্পত্তির ক্ষতি বা তছরুপের অভিযোগে অবিলম্বে এফআইআর-এর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে জেলা বিচারকের কাছে। জেলা বিচারকের কাছে দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে মন্দির কমিটির নির্বাচন বন্ধ। অথচ এই মন্দির সম্পর্কিত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর। সেবায়েতদের মধ্যে থেকে যেমন কমিটিতে পাঁচ জনের নির্বাচিত হওয়ার কথা, সেইভাবেই মন্দিরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, বাইরের এমন ছ’জনেরও তাতে থাকার কথা। এই কমিটির চেয়ার‌ম্যান হবেন জেলা জজ। প্রতিনিধি হিসাবে যে বণিকসভার থাকার কথা, তারা জানিয়েছে, যে শিল্পকর্তা তাদের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতেন, তাঁর মৃত্যুর পর মন্দিরের তরফে আর যোগাযোগ করা হয়নি।

দেবর্ষিবাবু বলেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডিএম অফিসকে ভক্তদের দানসামগ্রী দেখভালের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু বাস্তবে সেইসব কিছু হয়নি। মন্দিরে গেলেই বোঝা যায়, কতটা অরাজকতা চলছে। হাইকোর্টের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভক্তদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মাকে দর্শনে বাধা, গর্ভগৃহে যেমন খুশি প্রবেশ চলছে অবাধে।’


কালীঘাট মন্দিরের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কোনও ঘটনা নয়। ২০০৬ সালে হাইকোর্টে গড়ায় অভিযোগ। মন্দিরের তৎকালীন চেয়ারম্যান তথা জেলা বিচারক আক্ষেপ করেন, মন্দিরের সামগ্রিক পরিস্থিতির হালও বেহাল। যে প্রণামী জমা পড়ার কথা, তা পড়ে না। পুজোর পালা বিক্রি হয়ে যায় বহিরাগতদের কাছে। ২০ বছর পরও যে পরিস্থিতি এতটুকু বদলায়নি, তা সাবর্ণদের অভিযোগে ফের প্রমাণিত।