দিল্লিতে ভেঙে পড়ল বহুতল, মৃত ১, ধবংসস্তূপের তলায় বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা
দিল্লিতে বহুতল ভেঙে বিপর্যয়। রবিবার দুপুরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ছয়’তলা বহুতল ভবন। আহত বহু, একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বহু মানুষের ধবংসস্তূপের নীচে আটকে থাকার সম্ভাবনা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। রবিবার দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল ভেঙে পড়ে। এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রশাসন সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর ১ টা ৩০ মিনিট নাগাদ বাড়িটি ভেঙে পড়ে। বাড়িটিতে প্রায় ৭৫ জনের থাকার ব্যবস্থা ছিল। এটি মূলত একটি পেয়িং গেস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হত। আশাপাশে অনেক কলেজ থাকায় অনেক পড়ুয়ারাই পেইং গেস্ট হিসেবে এখানে থাকতেন। পিজিটি ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত ছিল। বেশ কয়েকজন ছাত্রের ধবংসস্তূপের নীচে আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় বেশিরভাগ ওই আবাসনের বেশির মানুষই বাড়িতে ছিলেন। বাড়িটির মালিক গুরুগ্রামে থাকেন বলে জানা গেছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভিতরে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ১৫ জনের আটকে থাকার সম্ভাবনা। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর ১.৩৪ নাগাদ পিসিআর থেকে তাদের কাছে একটি ফোন আসে। খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। দুর্ঘটনার পর পাশের বাড়িটিও খালি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল, দিল্লি পুলিশ, দমকল, ক্যাট অ্যাম্বুলেন্স সহ জরুরি পরিষেবাগুলি ঘটনাস্থলে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ ও বিধায়ক অনিল শর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন। এদিকে, উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটায় কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া, অ্যাম্বুলেন্সের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে তাঁরা আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করেছেন।