সম কাজে সম বেতন, মজুরি বাড়ল প্রায় তিন গুণ! ব্রেথওয়েটে আবির মেখে উৎসব শ্রমিকদের
সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি, ২৪ সেপ্টেম্বর : দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্যের অবসান। একই কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিকের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখলেন হুগলির ব্রেথওয়েট কারখানার চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতেই কারখানা চত্বরে দেখা গেল উৎসবের আবহ। আবির খেললেন শ্রমিকরা, হল মিষ্টিমুখও। পুজোর আগে এই মজুরি বৃদ্ধি তাঁদের কাছে দীর্ঘ লড়াইয়ের বড় প্রাপ্তি।
শ্রমিকদের দাবি ছিল, কাজের ক্ষেত্রে তেমন কোনও পার্থক্য না থাকলেও স্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পারিশ্রমিকে ছিল উল্লেখযোগ্য ফারাক। কারখানায় প্রায় ৩০ জন স্থায়ী কর্মীর পাশাপাশি ৬১ জন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক কাজ করতেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, একই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে বেতনের বৈষম্য দূর করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে গত ৬ জুন কলকাতার রবীন্দ্র সদনে শ্রম দপ্তরের উদ্যোগে বৈঠক হয়। সেখানে ব্রেথওয়েট কর্তৃপক্ষ-সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলিকে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সম কাজে সম বেতন নিশ্চিত করা, নিয়োগপত্র দেওয়া এবং বেতন সংক্রান্ত নথি সরবরাহের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শ্রমিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন নির্ধারিত হারে প্রশিক্ষণহীন শ্রমিকরা দিনে প্রায় ৭৮৪ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত পেতেন। মাসে গড়ে ২৬ দিন কাজ এবং ওভারটাইম মিলিয়ে অনেকের মাসিক আয় আট থেকে দশ হাজার টাকার মধ্যে থাকত। নতুন কাঠামো চালু হওয়ার পর তাঁদের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ আয় হচ্ছে বলে দাবি শ্রমিকদের।
স্থায়ী শ্রমিক কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা খুশি, ম্যানেজমেন্টও খুশি। চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের পাশাপাশি ঠিকা শ্রমিকদের বেতনও বাড়লে আরও ভালো লাগবে।”
বর্তমানে কারখানায় প্রায় ২৫০ জন ঠিকা শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বেতন কাঠামো কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
রেল মন্ত্রকের অধীন এই কারখানায় মালগাড়ির ওয়াগন, বগি, কনটেনার, ক্রেন, ব্রিজ, কাপলার এবং বিভিন্ন ধরনের কাস্টিং-সহ রেলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম তৈরি হয়। শ্রমিকদের কাছে তাই নতুন বেতন কাঠামো শুধুমাত্র আয় বৃদ্ধির বিষয় নয়; তাঁদের মতে, এটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্যতা এবং মর্যাদার স্বীকৃতিও।