আজ থেকে বার্ধক্য ভাতা, স্বামীহীনা সহ দিব্যাঙ্গদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি, নবান্ন থেকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
দিব্যাঙ্গ ও স্বামীহীনাদের জন্য ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধি, নবান্ন সভাঘর থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতা এক হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। সেই বর্ধিত হারে আজ সোমবার থেকে রাজ্যের ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের অ্যাকাউন্টে বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতার টাকা পাঠানো শুরু হল। আজ নবান্ন সভাঘর থেকে এই বর্ধিত হারে অর্থ প্রদানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে ২০ জনের হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আগামী এক থেকে দু’দিনের মধ্যেই সমস্ত উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে বর্ধিত হারে ভাতা পাঠানোর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আজ বেশ কয়েকজন উপভোক্তাকে বর্ধিত হারে বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয় নবান্ন থেকে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংকল্প পত্রের গ্যারান্টার ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি। আজকে আমরা আগস্ট মাসের যে বৃদ্ধি ঘটেছে, তা আজকে ৭ তারিখে অ্যাকাউন্টে টান্সফার করা হল। এবার থেকে দেড় হাজার করে দেওয়া হবে। আমাদের রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। বিগত সরকারগুলির অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা না মানা, বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হানি হওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া, কেন্দ্রীয় সরকারের নানা কর্মসূচিতে আমরা যুক্ত না হওয়ার ফলে, আমরা কার্যত অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া রাজ্যে পরিণত হয়ে গেছিলাম বা এখনও বেহাল অবস্থায় আছি। এই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে ন্যূনতম আরও একবছর লাগবে বলে মনে করছি। ইতিমধ্যে আমরা ভারত সরকারে সমস্ত স্কিমে যুক্ত হয়েছি, এর ফলে ভারত সরকারের নানা অর্থ আসতে শুরু করেছে। এবং আরও অর্থ আমরা পাব। দ্বিতীয়ত গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ রেভিনিউ আমাদের বাড়তি কোষাগারে আসছে। অনেকাংশে রাজস্ব লিকেজ আমাদের যে সমস্ত রেভিনিউ চুরি হত, কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আমাদের রেভিনিউ আরও বাড়বে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মুখ্য সচিব তাঁর ভাষণে এদিন ভুয়া বেনিফিশারির কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বয়স রয়েছে, বয়স বাড়িয়ে মিথ্যা সার্টিফিকেট দিয়ে অনেকে বার্ধক্য ভাতার সুযোগ নিচ্ছেন। এই সরকারের নীতি হচ্ছে যোগ্য লোকের হাতে বেনিফিট পৌঁছে দেওয়া। কারণ একটা সরকারের কাজ শুধু ভাতা দেওয়া সেটা হতে পারে না। একটা সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান, শিল্প-বাণিজ্য, আধুনিক কৃষি তার নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজকে সমান অগ্রাধিকার দিতে হয়। আমাদের নরেন্দ্র মোদিজি শিখিয়েছেন সেবাই সংগঠন। আমরা যে আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করি, পণ্ডিত দিনদয়াল উপাধ্যায় তিনি সব সময় একাত্ম মানববাদের কথা বলেছেন, অর্থাৎ আমাদের কল্যণ করতে হবে, কিন্তু প্রাপক যেন সঠিক হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যোগ্য লোকের হাতে সামাজিক কল্যাণের মাধ্যমে সমস্ত ভাতা যাবে। বিগত সরকারের ওয়েটিং লিস্ট আমি আজ থেকে বাতিল করলাম। যারা জনকল্যাণ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তাদের ভেরিফিকেশন করে, তাদেরকে আগে দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চালু করা ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ সেখানে যারা আবেদন করেছেন, তাদেরও ভেরিফিকেশন করে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বর্তমান সরকারের আমলে নতুন করে প্রাপকদের ওয়েটিং লিস্টের তালিকা তৈরি হবে, আর যারা পাচ্ছেন তাদেরকে আজকেও আমরা দিলাম। আমাদের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর দিল- ২০ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৮৯ জনকে। নারী-শিশুকল্যাণ সমাজকল্যাণ দফতর দিল ৬১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৩০ জনকে। মোট পেনশন যারা পেলেন তারা হলেন ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন। হাজার টাকার পরিবর্তে হল ১৫০০ টাকা। বছরে মোট খরচ হবে ১৪ হাজার সাতশো ৭১ কোটি টাকা। যারা প্রকৃত প্রাপক ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ ফোন করে নাম লেখাবেন। আর যারা মনে করছেন প্রকৃত প্রাপক নন, তারা সারেন্ডার করতে পারেন, আমি ওয়েলকাম জানাব।
এদিনের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পৌর নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সহ শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়, মালতী রাভা রায়, শান্তনু প্রামাণিক, ভাস্কর ভট্টাচার্য মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত প্রমুখ।
উল্লেখ্য, রাজ্যের ৬০ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা উপভোক্তার মধ্যে ২০ লক্ষ উপভোক্তা কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রাপ্ত জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। এই প্রকল্পে ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি উপভোক্তাদের জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দ মাসে ২০০ টাকা। অপরদিকে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য কেন্দ্র দেয় ৫০০ টাকা। এতদিন ধরে কেন্দ্রের বরাদ্দের সঙ্গে রাজ্যের নিজস্ব কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে উপভোক্তাদের মাসে ১,০০০ টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হত। এবার সেই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বাকি ৪০ লক্ষ উপভোক্তাকে সমাজকল্যাণ দফতরের মাধ্যমে পরিচালিত রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্পের আওতায় বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে। এই ৪০ লক্ষ উপভোক্তার ভাতার সম্পূর্ণ খরচই বহন করবে রাজ্য সরকার।