ব্রেকিং

ডেঙ্গু ঠেকাতে কড়া অগ্নিমিত্রা, খালি জমিতে জল জমলেই মালিকের সম্পত্তি করে জুড়বে জরিমানা!

Saturday, 26 September 2026 at 11:47 Superadmin
Share
ডেঙ্গু ঠেকাতে কড়া অগ্নিমিত্রা, খালি জমিতে জল জমলেই মালিকের সম্পত্তি করে জুড়বে জরিমানা!

হাওড়া: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এবার আরও কড়া অবস্থানের বার্তা দিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। শনিবার হাওড়া পুরসভার উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু সচেতনতা র‍্যালিতে অংশ নিয়ে নাগরিকদের শুধু নিজেদের বাড়ি নয়, আশপাশের পরিবেশও পরিষ্কার রাখার আবেদন জানান তিনি। একইসঙ্গে খালি জমিতে জল জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হলে জমির মালিকের বিরুদ্ধে জরিমানার হুঁশিয়ারি দেন পুরমন্ত্রী।

অগ্নিমিত্রা জানান, কোনও খালি জমিতে ঝোপঝাড় তৈরি হয়ে থাকলে কিংবা সেখানে জল জমে থাকলে দ্রুত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের সম্পত্তি করের সঙ্গে বড় অঙ্কের জরিমানা যুক্ত করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই জরিমানার উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় নয়, নাগরিকদের সচেতন করা এবং ডেঙ্গুর উৎসস্থল তৈরি হওয়া আটকানো।

এদিনের সচেতনতা কর্মসূচিতে পুরসভার সাফাই কর্মী, নির্মল বন্ধু, নির্মল সাথী এবং ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কাজ করা কর্মীদের সঙ্গে নিয়েই হাওড়ায় সচেতনতা র‍্যালি হয়।

পুরমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাওড়ায় বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৯। একটি ওয়ার্ডে সর্বাধিক ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। অন্য কয়েকটি এলাকার তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম দাবি করলেও অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট করে দেন, এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে আক্রান্তের সংখ্যা আর না বাড়ে এবং ধীরে ধীরে তা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুরসভা বা সাফাই কর্মীদের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে সাধারণ নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বাড়ির ছাদে জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ফুলদানির জল নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলে দেওয়া এবং পুরনো ফ্রিজের পিছনে জল জমছে কি না, সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

শুধু বাড়ির ভিতরেই নয়, নির্মাণস্থল, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ কিংবা পড়ে থাকা টিন, অ্যাসবেস্টস, ইট ও পুরনো টায়ারের মধ্যেও জল জমে থাকতে পারে। সেখান থেকেই মশার বংশবিস্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেন পুরমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একটি বাড়ির আশপাশে মশার প্রজনন হলে তার প্রভাব শুধু সেই পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, আশপাশের গোটা এলাকাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও নাগরিকদের সতর্ক করেন অগ্নিমিত্রা। বাড়ির পচনশীল ও অন্যান্য বর্জ্য আলাদা করে নির্দিষ্ট সময়ে সাফাই কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। সাফাই কর্মীরা বাড়িতে আসার পর তাঁদের না দিয়ে পরে রাস্তার পাশে বা পাড়ার কোনও জায়গায় ময়লা ফেলে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার বার্তাও দেন। তাঁর দাবি, নিয়ম না মানলে ইতিমধ্যেই জরিমানা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রাস্তার ধারে পুরসভার পক্ষ থেকে বিন বসানো হলেও সেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বর্জ্য ফেলার আবেদন জানান তিনি। একইসঙ্গে শরৎ সদনের বাগানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন পুরমন্ত্রী। বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে সামনে রেখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের উপর জোর দেন তিনি।

অগ্নিমিত্রার বার্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়। প্রত্যেক নাগরিক নিজের বাড়ি, দোকান, জমি এবং আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখলে মশাবাহিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই আরও কার্যকর হবে। হাওড়ার সচেতনতা কর্মসূচি থেকে সেই নাগরিক দায়িত্বের বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন পুরমন্ত্রী।