আরও বিপাকে অভিষেক! এবার ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর খালি করার নির্দেশ দিল দমকল
ভোটের রেজাল্ট বের হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক আর কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ক্রমশই বাড়ছে অস্বস্তি। সোনারপুরে দলীয় কর্মীকে দেখতে সাধারণ মানুষের রোষের শিকার হন একদা তৃণমূলের তথাকথিত সর্বেরসর্বা অভিষেক। তার পর থেকে একের পর এক বিড়ম্বনা বেড়েই চলেছে তার।
এবার আরও অস্বস্তিতে পড়লেন অভিষেক। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর খালি করার নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। অভিযোগ, যেখানে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। অগ্নি নিরাপত্তার সমস্ত নিয়ম সেখানে মানা হয়নি। যা নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে এই পরিপ্রেক্ষিতে এবার মূল ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দমকল। এই মর্মে মালিকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৯, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরণির (ক্যামাক স্ট্রিট) মূল ভবনটির সপ্তম এবং অষ্টম তলায় অভিষেকের অফিস। এই দুটি তলার জন্য নিয়মিত ভাড়া দেওয়া হয় বলে জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু দিন আগে সেখান থেকে একটি হোর্ডিং খুলতে গিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা। সেই সময় অভিষেক এবং তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে তাদের বচসা হয়। এমনকি পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন অভিষেকরা। এই নিয়ে মামলাও চলেছে। তার কয়েক দিনের মধ্যে ভবনের মালিকের কাছে নির্দেশিকা পাঠাল দমকল বিভাগ।
দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, ক্যামাক স্ট্রিট ভবনের সপ্তম এবং অষ্টম তলায় অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম না মানার অভিযোগে মালিকপক্ষ এবং ভাড়াটিয়াদের তলব করা হয়েছিল। ভাড়াটিয়ারা যথাসময়ে নথিপত্র নিয়ে হাজিরা দেন। কিন্তু মালিকপক্ষ তলবে সাড়া দেননি।
দমকল আরও জানিয়েছে, ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলে এবং নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, ওই ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব রয়েছে মালিকের। অগ্নি নিরাপত্তার শংসাপত্রটির মেয়াদও ফুরিয়ে গেছে ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট। সেটি রিনিউনাল করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। মালিকপক্ষ তা-ও করেননি। ফলে ভবনের ওই অংশ নিরাপদ নয়, ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে এবার তা অবিলম্বে খালি করতে হবে বলে জানিয়ে দিল দলকল। একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভবনের বেসমেন্টের জন্যে। সেইসঙ্গে, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সঠিক ভাবে স্থাপন করার আগে ওই দুই তলা ব্যবহার করতে পারবেন না মালিকও। দমকলের এই নির্দেশিকার একটি করে কপি কলকাতা পুরসভা, শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং সিইএসসি দফতরেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।