প্রতীক পাবে কে? জোর টক্কর কালীঘাট ও ঋতব্রত তৃণমূলের মধ্যে, কী সিদ্ধান্ত দেবে কমিশন?
বন্দে মাতরম সংবাদ: ছাব্বিশের বিধানসভায় (2026 Assembly Election) রাজ্য রাজনীতিতে পালা বদলের পর পরই তৃণমূলে ফাটল। একদিকে ‘কালীঘাটপন্থী তৃণমূল’ অপরদিকে রয়েছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। ‘কালীঘাটপন্থী তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর মধ্যে প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন চলছে। এই আবহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন (By Election) । প্রতীক কার? ভোটের আগেই সম্ভবত এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যেতে পারে!
নির্বাচন কমিশন (Election Commission) কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার।
তবে কমিশন সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে ‘ঘাসের উপর জোড়াফুলের’ প্রতীক। শনিবার দুই শিবিরকেই নিজেদের বক্তব্য রাখতে তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রথমে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’, তারপর ‘কালীঘাট তৃণমূল।’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পাঁচজন। বৈঠক শেষে ঋতব্রত শিবির দাবি করেন, ‘তৃণমূল কারও বাবার দল নয়।’ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর দাবি, প্রতীকের দখল থাকবে তার হাতেই। অপরদিকে একই দাবি কালীঘাট তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেইসঙ্গে তার বক্তব্য, কমিশন অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে পারে। যদি সেই নির্দেশ না দেয়, তাহলে কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রাম (Nandigram) ও রেজিনগর (Rejinagar) উপনির্বাচন জোড়াফুল প্রতীকেই লড়বে।
কমিশনের নির্দেশের দিকে তাকিয়ে আছে সব মহল। প্রথম সম্ভাবনা থাকছে, প্রতীক ও দলের নাম দেওয়া হতে পারে কালীঘাট তৃণমূলকে। সেই ক্ষেত্রে উপনির্বাচন এবং আগামী দিনের নির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকে লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীরা অর্থাৎ কালীঘাট তৃণমূল। দ্বিতীয় সম্ভাবনা, প্রতীক দেওয়া হল ঋতব্রত শিবিরকে। সেক্ষেত্রে মমতা তৃণমূলকে অন্য প্রতীক খুঁজে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।
জানা গেছে, কালীঘাট তৃণমূল ইতিমধ্যেই বিকল্প প্রতীক হিসেবে অন্য একটি ফুলের কথা ভেবে রেখেছে। এই দুই ক্ষেত্রেই যে শিবির প্রতীক পাবে না, তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। অর্থাৎ প্রতীক ভবিষ্যৎ ঝুলে থাকবে। তৃতীয় বিকল্প হচ্ছে, কমিশন এখনই কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে ‘স্টেটাস কো’ অর্থাৎ ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় যদি নির্দেশ দেয়। দুই শিবিরকে আরও নথি জমা দিতে বলা হতে পারে। সেক্ষেত্রেও লাভ কালীঘাটপন্থী শিবিরের। তাহলে তাঁরাই জোড়াফুল প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে পারবে। আর চতুর্থ সম্ভাবনা হল অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকটিই ফ্রিজ করে দেওয়া। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই প্রতীক পাবে না। দুই শিবিরকেই আলাদা দল গড়ে বা ‘নির্দল’ হিসাবে লড়াই করতে হবে। দীর্ঘ শুনানির পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। কমিশন সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে প্রবল।