ব্রেকিং

পচে যাওয়া পা নিজেই কাটেন, যুদ্ধের ভয়াবহতায় ৪৯১ দিন পরে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা

Monday, 26 October 2026 at 19:49 Superadmin
Share
পচে যাওয়া পা নিজেই কাটেন, যুদ্ধের ভয়াবহতায় ৪৯১ দিন পরে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা

বন্দে মাতরম সংবাদ: 


যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বেঁচে থাকার তীব্র আকুতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে ইউক্রেনীয় সেনা কনস্ট্যান্টিন ভ্লাসেঙ্কোর এই নিঃসঙ্গ লড়াই। ইউক্রেনের সেনা জওয়ান কনস্ট্যান্টিন ভ্লাসেঙ্কো -র এক অবিশ্বাস্য ও মর্মান্তিক বেঁচে থাকার লড়াইয়ের ঘটনা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। ফ্রন্টলাইনে একটানা ৪৯১ দিন সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাটিয়ে সম্প্রতি খবরের শিরোনামে এসেছেন তিনি। আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা। 


খারকিভ অঞ্চলের সম্মুখসমরে একটি কংক্রিটের নিকাশি পাইপ বা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে সহযোদ্ধার সঙ্গে মোতায়েন ছিলেন কনস্ট্যান্টিন। কিন্তু রুশ ড্রোন হামলায় তাঁর সহযোদ্ধা মারা যান এবং তিনি একা হয়ে পড়েন। মাথার ওপর সর্বক্ষণ রুশ ড্রোনের নজরদারি থাকায় সেখান থেকে বের হওয়া বা অন্য কারও পক্ষে তাঁর কাছে পৌঁছনো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। মাঝেমধ্যে ইউক্রেনীয় ড্রোন মারফত তাঁর জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেলা হত। 

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রুশ ড্রোন হামলায় তাঁর একটি পা মারাত্মকভাবে জখম হয় এবং অন্য পাটিও ভেঙে বেঁকে যায়। দিনের পর দিন চিকিৎসাহীন অবস্থায় থাকার কারণে তাঁর ক্ষতস্থানে পচন ধরে। চরম বিপদের মুখে পড়ে এবং জীবন বাঁচাতে নিজেই চরম এক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কাছে থাকা ছুরি দিয়ে নিজেই নিজের পা কেটে বাদ দেন। এরপর রক্তপাত বন্ধ করতে নিজেই ব্যান্ডেজ ও টুর্নিকেট ব্যবহার করেন। 


রুশ বাহিনী স্পিকারের মাধ্যমে তাঁকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিলেও তিনি তা বীরদর্পে প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে গত ৪ অক্টোবর একটি পরিবর্তিত ভারী ড্রোনের সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ড্রোনটি তাঁকে নিরাপদ আশ্রয়ে ১১ মাইল দূরে উড়িয়ে নিয়ে যায়। গ্যাংগ্রিন ও ফ্রস্টবাইটে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কনস্ট্যান্টিন ভ্লাসেঙ্কোর সফলভাবে নিজেকে যুক্ত করতে সক্ষম হন। বর্তমানে খারকিভের একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি, তাঁর কৃত্রিম পা সংযোজনের প্রস্তুতি চলছে। 

দীর্ঘ প্রায় ১৬ মাস বা ৪৯১ দিন ওই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাটানোর পর গত ৪ অক্টোবর তাঁকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে আকাশপথে বা ফ্রন্টলাইন থেকে কোনও আহত সেনাকে ড্রোনের মাধ্যমে সশরীর উদ্ধারের এটিই বিশ্বের প্রথম ঘটনা।