ব্রেকিং

চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু, কোজাগরীতে পরামানিক বাড়িতে শোকের আঁধার

Monday, 26 October 2026 at 14:03 Superadmin
Share
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু, কোজাগরীতে পরামানিক বাড়িতে শোকের আঁধার

সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি:

 

লক্ষ্মীপুজোর যে বাড়ি আত্মীয়-স্বজনের ভিড়ে গমগম করত, কোজাগরীর সেই রাতেই এ বছর সেখানে নিস্তব্ধতার পাহাড়। প্রদীপের আলো নেই, নেই লক্ষ্মীনারায়ণের মাটির প্রতিমা, নেই উৎসবের আয়োজন। আরামবাগের মলয়পুরের বালিয়া গ্রামের পরামানিক বাড়িতে এ বার কোজাগরীর চাঁদ যেন শোকের অন্ধকারে ঢাকা পড়েছে। কলকাতার চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুই কেড়ে নিয়েছে দীর্ঘদিনের উৎসবের আনন্দ।

 

দীর্ঘদিন ধরে পরামানিক বাড়িতে লক্ষ্মীনারায়ণের মাটির মূর্তি গড়ে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে। গ্রামের অন্যতম বড় এই পুজোকে ঘিরে প্রতি বছর আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের ভিড় জমত। কিন্তু এ বছর ষষ্ঠীর দিন কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়া পরিবারের আট সদস্যের মধ্যে তিনজন আর বাড়ি ফিরলেন না। পরের দিন চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান পিয়ালি পরামানিক, তাঁর ননদ টগর বেজ এবং টগরের ৯ বছরের ছেলে সন্দীপ বেজ। প্রতিমার অর্ডার দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনটি প্রাণের অকালমৃত্যুতে শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছে পুজোও।

 

পরিবারের প্রবীণ সদস্য নবকুমার পরামানিক কন্যা ও পুত্রবধূকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান। টগরের বৃদ্ধা মা বাকরুদ্ধ। ছ’বছরের সানি এখনও মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে। মা, পিসি ও পিসতুতো দাদাকে হারানোর মর্মান্তিক অর্থ বোঝার বয়স হয়নি তার। শুধু মায়ের কাছে ঘুরঘুর করার দিনগুলো আর ফিরছে না। অবুঝ নাতিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন দাদু। নাতি সন্দীপের স্মৃতিও তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

 

যে বাড়িতে হাসি, দুষ্টুমি আর পুজোর ব্যস্ততায় ভরে উঠত প্রতিটি কোণ, সেখানে এখন শুধুই হাহাকার। কোজাগরীর আলো জ্বললেও ফিরবে না হারানো তিনজন। উৎসবের ভিড়ের আড়ালে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর যে নির্মম পরিণতি, বালিয়ার পরামানিক বাড়ি এ বার তারই এক মর্মান্তিক সাক্ষী। লক্ষ্মীপুজো বন্ধ, কিন্তু স্বজন হারানোর ক্ষত কি কোনও দিন মুছবে?