শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যাঁরা ছিলেন নীরব যোদ্ধা, তাঁদের কুর্নিশ জানালো শহরবাসী
মানালি দত্ত, মুর্শিদাবাদ -
দুর্গাপুজোর আনন্দে যখন গোটা শহর মেতে উঠেছিল, তখনও একদল মানুষ নীরবে কাজ করে গিয়েছেন যাতে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়। তাঁরা হলেন শহরের সাফাইকর্মীরা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের নোংরা-আবর্জনা পরিষ্কার করাই তাঁদের কাজ। অথচ নাগরিক হিসেবে আমরা অনেকেই শিক্ষিত হয়েও অসচেতনতার পরিচয় দিই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও অনেকেই তার গুরুত্ব দেন না।
পুজোর পর আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হচ্ছে জাতীয় পতাকা, দেবদেবীর ছবি ও মূর্তি — যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাফাইকর্মীদের আবেদন, দেবদেবীর ছবি ও মূর্তি সম্মানের সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। কখনওই সেগুলি নোংরা আবর্জনার মধ্যে ফেলবেন না।
দিনের পর দিন, একদিকে যখন মানুষ মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করতে ব্যস্ত, তখন সকালে একবার, রাতে একবার — দিনে দু'বার করে আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করেছেন এই সাফাইকর্মীরা। মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের পুজো কতটা আনন্দে কাটল, সেই খবর কি আমরা রেখেছি?
এক সাফাই কর্মীর বক্তব্য আমাদেরকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটি তো পালন করতেই হবে। সাফাইয়ের কাজ না করলে মানুষের অসুবিধা হবে তাই সে কাজ করেছি, তারই মাঝে সময় বের করে পরিবারকে নিয়ে একটু মণ্ডপেও ঘুরেছি। সারা বছর কাজ করি পুজোর সময় ইচ্ছে না করলেও করতে হবে কারণ এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে।
পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকাও ছিল নজরকাড়া। অফিসার থেকে শুরু করে সিভিক ভলান্টিয়ার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নামানো বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা মানুষের সুবিধার্থে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন। কলকাতার চোরাবাগানের ঘটনার পর মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। নিজেদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে তাঁরা দায়িত্ব পালনে ব্রতী ছিলেন, যাতে যানজট না হয় এবং মানুষ সুষ্ঠুভাবে ঠাকুর দেখতে পারে। সেই কারণেই জেলাবাসী প্রশাসনের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীদের বক্তব্য, আমাদের পক্ষ থেকে শহরের এই নীরব যোদ্ধাদের জানাই শুভেচ্ছা। আপনারা আছেন বলেই শহর পরিচ্ছন্ন থাকে, শহর ভালো থাকে।