আরামবাগের বালি-দেওয়ানগঞ্জে রাউত পরিবারের শতাব্দীপ্রাচীন শিব-দুর্গামন্দির, সংরক্ষণই এখন ঐতিহ্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ
সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি:
পোড়ামাটির ফলকে ফুটে উঠেছে দেবদেবীর অবয়ব, পৌরাণিক কাহিনি আর প্রাচীন বাংলার শিল্পীদের অসামান্য দক্ষতা। অথচ সেই ঐতিহ্যের গুরুত্ব কতটা সংরক্ষিত হচ্ছে? আরামবাগের বালি-দেওয়ানগঞ্জের রাউতপাড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা রাউত পরিবারের শতাব্দীপ্রাচীন শিব-দুর্গামন্দির এই প্রশ্নই সামনে আনছে। প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার এই মন্দির শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, বাংলার প্রাচীন মন্দির স্থাপত্য ও পোড়ামাটির ভাস্কর্যের এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। বিশেষ করে, মন্দিরের গায়ে দেবী লক্ষ্মীর বিরল অবয়ব এই স্থাপত্যকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচিতি।
মন্দিরের প্রবেশদ্বারের উপরের অংশ থেকে দেওয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে পোড়ামাটির সূক্ষ্ম কারুকাজ। শিব ও দুর্গার পাশাপাশি দেবদেবীর নানা অবয়বের মধ্যে নজর কাড়ে পদ্মকুঁড়ির ডাঁটা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা দেবী লক্ষ্মীর মূর্তি। পরিচিত লক্ষ্মীমূর্তির প্রচলিত রূপের বাইরে এই ভাস্কর্য প্রাচীন শিল্পীদের কল্পনাশক্তি, নান্দনিকতা ও কারিগরি দক্ষতার পরিচয় বহন করে। সাধারণ পোড়ামাটিকে কীভাবে শিল্পের অসাধারণ মাধ্যম করে তুলেছিলেন তাঁরা, এই মূর্তিই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মন্দিরটির গুরুত্ব অবশ্য শুধু স্থাপত্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোজাগরী পূর্ণিমা এবং দীপান্বিতা অমাবস্যায় এখানে ঐতিহ্য মেনে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা হয়। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই ধর্মীয় রীতি আজও প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সম্পর্ক অটুট রেখেছে।
কিন্তু ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণের প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের ক্ষয় ও অবহেলায় বাংলার বহু প্রাচীন স্থাপত্যের শিল্পকর্ম হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাউতপাড়ার এই মন্দিরের পোড়ামাটির ভাস্কর্যগুলির যথাযথ পরিচর্যা, নথিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ জরুরি। ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস ও শিল্পকলার এই বিরল মেলবন্ধন রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও চিনতে পারবে বাংলার সমৃদ্ধ স্থাপত্যঐতিহ্য।