সুপারি আমদানিতে ‘মহাকেলেঙ্কারি’র গন্ধ! পেট্রাপোলের আড়ালে কারা?
কুন্তল চক্রবর্তী, বনগাঁ:
স্বাধীন ভারতের অন্যতম বড় আমদানি-শুল্ক কেলেঙ্কারি হয়ে ওঠার আশঙ্কা কি সুপারি আমদানিকে ঘিরে? পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা সুপারির উৎস, আমদানির নথি, শুল্ক নির্ধারণ এবং বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। অভিযোগ সত্য হলে, এর নেপথ্যে কি রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে শুল্ক ফাঁকির কোনও বড়সড় চক্র? আর সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকলে কারা রয়েছেন পর্দার আড়ালে?
বাংলাদেশ থেকে ভারতে আমদানি হওয়া সুপারি সত্যিই বাংলাদেশে উৎপাদিত, নাকি অন্য কোনও দেশ থেকে সুপারি এনে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তির দেশ, প্রযোজ্য শুল্কবিধি এবং আমদানির নথিতে অসংগতি থাকলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন আমদানি সংক্রান্ত নথি, পণ্যের উৎস এবং শুল্ক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির সক্রিয়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তদন্তের পরিধি কতটা বিস্তৃত, কোন কোন ব্যক্তি বা সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আদৌ কত টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে—তার স্পষ্ট উত্তর এখনও প্রয়োজন। তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপের পাশাপাশি শুল্ক দফতর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকার দিকেও নজর রয়েছে।
কিন্তু যে কোনও বড় আর্থিক অনিয়মের তদন্তে শুধু সামনের সারির ব্যবসায়ী বা আমদানিকারকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখলেই চলে না। প্রয়োজন হলে খুঁজে দেখতে হয় গোটা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তর—পণ্যের উৎস নির্ধারণ, আমদানির নথি তৈরি, শুল্ক মূল্যায়ন, ছাড়পত্র এবং আর্থিক লেনদেন। কোথাও কোনও যোগসাজশ থাকলে তার প্রমাণও সামনে আনা জরুরি।
এই রহস্যের নেপথ্যে কি রয়েছেন কোনও ‘প্রযোজক’, ‘পরিচালক’ কিংবা ‘সম্পাদক’—যাঁরা সামনে না থেকেও গোটা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন? নাকি বিষয়টি নিছক বাণিজ্যিক অনিয়মের অভিযোগ? এই প্রশ্নগুলির উত্তর অনুমানের ভিত্তিতে নয়, তদন্তের তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই মিলতে হবে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায় নেবে কে? দেশের রাজস্বের প্রতিটি টাকা জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। তাই পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সুপারি আমদানির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগের আড়ালে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তাও নিশ্চিত করা হোক।
এখন নজর তদন্তের দিকে। পেট্রাপোলের সুপারি আমদানিকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নের উত্তর কি মিলবে? নাকি প্রকৃত সত্য থেকে যাবে পর্দার আড়ালেই?