নবদ্বীপে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সম্পন্ন হল রাধাকুণ্ডের স্নান
শ্যামলকান্তি বিশ্বাস, নদিয়া:
নদিয়াতীর্থ নবদ্বীপের প্রায় নয়টি ঘাটে রবিবার মধ্যরাতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মাঝে শুরু হয় রাধাকুণ্ডের স্নান। রাধাকুণ্ড স্নান হল হিন্দু বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম পবিত্র একটি আচার, যা উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার গোবর্ধন পাহাড়ের কাছে অবস্থিত রাধাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই স্নান উৎসব পালিত হয়।
শাস্ত্রমতে, এই পবিত্র কুণ্ডে যাঁরা মধ্যরাতে বা ভক্তি সহকারে স্নান করেন, তাঁরা রাধা-কৃষ্ণের তীব্র প্রেম-ভক্তি লাভ করেন। ভগবান কৃষ্ণ অরিষ্টাসুর অসুরকে বধ করার পর সমস্ত পবিত্র নদীকে আহ্বান করে নিজের চরণাঘাত দিয়ে একটি কুণ্ড তৈরি করেন, যা শ্যামকুণ্ড নামে পরিচিত। এরপর রাধারাণী ও তাঁর সখীগণ তাঁদের কাঁকনের সাহায্যে পাশেই আরেকটি কুণ্ড খনন করেন, যেখানে শ্যামকুণ্ডের জল প্রবাহিত হয়ে রাধাকুণ্ড তৈরি হয়। অতীত কাল দেখে এই স্নান উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার গোবর্ধন পর্বতের কাছে রাধাকুণ্ডের হয়ে আসলেও, মুরারী বাবা নামের নবদ্বীপের এক বৈষ্ণব সাধু মহারাজ, নবদ্বীপের রানী রাসমণি বিজড়িত ঘাট রানির ঘাটে কার্তিক মাসের বহুলা অষ্টমী তিথিতে এই স্নানের প্রচলন করেন। আর সেই থেকেই হয়ে আসছে নবদ্বীপের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সুরধনী গঙ্গায় এই পুণ্য স্নান।নবদ্বীপ শহরের আশেপাশের গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে দূর দূরান্তের পর্যটকরা অংশগ্রহণ করছেন এই স্নানে। তাই বর্তমানে এই স্নানকে ঘিরে বৈষ্ণব ভক্তদের উন্মাদনা দেখা দিয়েছে।
প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও নবদ্বীপ শহরে বিভিন্ন ঘাটে ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্তরা। কোনও অপ্রীতিকর অবস্থা যাতে না ঘটে শনিবার নবদ্বীপ পুরসভা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবদ্বীপের নয়টি ঘাটে বাস ও জাল দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। ভিড়ের চাপ কমানোর জন্য নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুরে এক অস্থায়ী ঘাটের ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। এদিন রাত বাড়তেই প্রত্যেকটা ঘাটে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়।