ব্রেক সু-তে আগুন, রিষড়ায় দুন এক্সপ্রেস ঘিরে আতঙ্ক, ৩০ মিনিট থমকে ট্রেন
সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি:
চলন্ত ট্রেনের কামরার নিচে আগুনের ফুলকি, মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢাকল স্টেশন চত্বর! শনিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ হুগলির রিষড়া স্টেশনে ঢোকার মুখে ১৩০০৯ আপ দুন এক্সপ্রেসের সামনের দিকের জেনারেল কামরার নিচে আগুনের ঘটনা ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুড়মুড়িয়ে ট্রেন থেকে নামতে শুরু করেন যাত্রীরা। তবে চালক ও গার্ডের তৎপরতা এবং রেলকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেল পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রিষড়া স্টেশনে ঢোকার সময় ট্রেনের নিচে আগুনের ফুলকি দেখতে পান চালক ও গার্ড। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয় স্টেশনে। ততক্ষণে আগুনের ধোঁয়ায় ভরে যায় স্টেশন চত্বর। আতঙ্কিত যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রেলের আধিকারিকরা। খবর দেওয়া হয় রিষড়া দমকল কেন্দ্রেও। একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও তার আগেই ট্রেনে থাকা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন রেলকর্মীরা।
রেলের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ব্রেক বাইন্ডিংয়ের কারণে ব্রেক প্যাড ও চাকার মধ্যে অতিরিক্ত ঘর্ষণ থেকেই আগুনের ফুলকি বেরিয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা জরুরি।
ঘটনার পর প্রায় ৩০ মিনিট রিষড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। গোটা ট্রেন পরীক্ষা করার পর ফের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয় দুন এক্সপ্রেস। রেল সূত্রে খবর, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে প্রশ্ন উঠছে, চলন্ত ট্রেনের ব্রেক ব্যবস্থায় এমন বিপত্তি কেন? যাত্রী সুরক্ষার ক্ষেত্রে রেলের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা কতটা ত্রুটিমুক্ত, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বড় বিপদ এড়ানো গেলেও এই ঘটনা রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করল।