Election Commission: ‘SIR-এর সমস্ত পদক্ষেপ একার সিদ্ধান্ত নয়, তিন সদস্যের কমিশনের অনুমোদনেই সম্পন্ন হয়েছে’, বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দাবি কমিশনের
বন্দে মাতরম, সংবাদ: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এসআইআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একদিকে যেমন ভুয়ো, মৃত ভোটার বাদ গিয়েছে, অপরদিকে এবারের নির্বাচনে প্রথম এত সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে মানুষ। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দিকে অভিযোগের আঙুল কম ওঠেনি। তবে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়নি এমনটা নয়। এবার সেই ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য সংক্রান্ত সহ সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাফ জবাব, এসআইআর সহ সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী—তিন জনের যৌথ অনুমোদন ও সম্মতি নিয়েই প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি বা নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছেন। এর জবাবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আলোচনার সময় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা, পরামর্শ দেওয়া বা ব্যাখ্যা চাওয়া স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অঙ্গ। কিন্তু একে কমিশনের অন্দরের সংঘাত বা আনুষ্ঠানিক ‘অসম্মতি’ (Dissent) হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
কমিশন ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলী ও কার্যকাল) আইন, ২০২৩’-এর ১৮ ধারার উল্লেখ করে জানিয়েছে, কমিশনের কাজ যথাসম্ভব সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়।
সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, নতুন ভোটারদের ফর্ম-৬ (Form 6) এ পরিবর্তন আনা, ভোটার তালিকার তথ্যপ্রযুক্তি বা ডেটাবেস ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয়করণ করা এবং বিভিন্ন রাজ্যে নাম বাদ দেওয়া বা আপিল প্রক্রিয়া নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে ফর্ম-৬ এ এসআইআর সংক্রান্ত নতুন ঘোষণা যুক্ত করার পদ্ধতি এবং নিয়ম সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে অন্দরে আলোচনা ও নোট লেখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।
কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই সোচ্চার হন বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কপিল সিবাল নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে যদি নথিবদ্ধ আপত্তি থাকে, তবে তা ভোটারাধিকার খর্ব করার একতরফা পদক্ষেপকে স্পষ্ট করে। এই আবহে বিরোধীদের কেউ কেউ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ বা গোটা প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সর্বোপরি, রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ও বিরোধীদের আক্রমণ জোরালো হলেও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত পদক্ষেপ কোনও একক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত নয়, বরং তিন সদস্যের কমিশনের সম্মিলিত ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।