Musical Fingers: ‘দুর্গাপুজো হোক সকলের জন্য’ ছোট ছোট শিশুদের পাশে মিউজিক্যাল ফিঙ্গারসের ‘ফেথ’
বন্দে মাতরম সংবাদ, কলকাতা: দুর্গাপুজো যেন সকলের জন্য আনন্দ, খুশি বয়ে নিয়ে আসে, এটাই আশা মিউজিক্যাল ফিঙ্গারসের। প্রতিবারের মতো এবছরেও ছোট ছোট শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এলেন মিউজিক্যাল ফিঙ্গারসের ডিরেক্টর শাঁওলী সেন। শাঁওলীদেবীর কথায়, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে আমরা একটা ছোট উদ্যোগ নিই, যদি কিছু মানুষের পাশে থাকতে পারি। কিছু মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারি। সেই ভাবনা থেকেই বিগত দশ-বারো বছর ধরে আমরা এই কাজটি করে আসছি।
মিউজিক্যাল ফিঙ্গারস মূলত একটি ইন্সট্রুমেন্টাল গ্রুপ, যেখানে গান-বাজনা শেখানো হয়, মূলত বাদ্যযন্ত্র শেখানো হয়। আমরা কোনও চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশন বা এনজিও নই। তবুও প্রতি বছর পুজোর আগে আমরা চেষ্টা করি সমাজের জন্য কিছু করতে, এমন কিছু মানুষের পাশে দাঁড়াতে যারা নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই ভাবনা থেকেই মিউজিক্যাল ফিঙ্গারসের একটি নতুন উইং তৈরি করেছি, যার নাম ‘ফেথ’। এটি মিউজিক্যাল ফিঙ্গারসের চ্যারিটেবল উইং। শাঁওলী সেন জানান, এ বছর ফেথের উদ্যোগে আমরা পাশে থাকতে পেরেছি কলকাতার সবচেয়ে বড়ো এবং এশিয়ার বৃহত্তম রেড লাইট এরিয়া সোনাগাছির কিছু মানুষের। সেখানকার সংগঠন ‘উমার স্বপ্ন’-এর সেক্রেটারি শ্রীমতী নমিতা ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেই আমরা এই কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে পেরেছি।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ আমরা সেখানকার মানুষদের হাতে শাড়ি তুলে দিই এবং দুপুরের আহার হিসেবে বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করি। সেদিন বাচ্চাদের হাতে চকোলেটও দেওয়া হয়। এছাড়াও উমার স্বপ্নের সদস্যদের হাতেও শুভ দুর্গাপুজো উপলক্ষে ছোট্ট উপহার তুলে দেওয়া হয়।
এরপর ৪ অক্টোবর আমরা সেখানকার বাচ্চাদের জন্য দুপুরের মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন করি। মেনুতে ছিল ভাত, মাটন এবং অন্যান্য খাবার। একই সঙ্গে বাচ্চাদের হাতে ড্রয়িং খাতা এবং পরীক্ষার বোর্ড তুলে দেওয়া হয়। বাচ্চারা আমাদের কবিতা আবৃত্তি করে শোনায়, সুন্দর গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করে। আমরা সকলে মিলে তাদের সঙ্গে অনেকটা সময় আনন্দ করে কাটাই।
মিউজিক্যাল ফিঙ্গারসের কর্ণধার শাঁওলী সেনের কথায়, এই পুরো কাজটা আমার একার পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। আমার মিউজিক্যাল ফিঙ্গারসের পরিবারের প্রত্যেক সদস্য পাশে ছিলেন বলেই আমরা সবাই মিলে এই উদ্যোগ নিতে পেরেছি। তাঁদের শুভেচ্ছা, ভালোবাসা, আর্থিক সহযোগিতা এবং নানা জিনিসপত্র দিয়ে সাহায্য করার জন্যই এই কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। পুরো কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই অরবিন্দকে। সেইসঙ্গে নমিতা ভট্টাচার্য সহ উমার স্বপ্নের প্রতিটি সদস্য সংস্থার প্রেসিডেন্টকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।