পুরভোটে প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই বিজেপির তুরুপের তাস
সব্যসাচী সাহা, কলকাতা:
সুনীল বনসলের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
দুর্গাপুজোর রেশ কাটতেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতিতে গতি বাড়াল বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া-সহ আসন্ন পুরনির্বাচনে প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে শুক্রবার সল্টলেকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে রাজ্য নেতৃত্ব। বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়। এছাড়াও এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ রাহুল সিনহা, বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, দিলীপ ঘোষ, বিধায়ক সজল ঘোষ, রিতেশ তিয়ারি, দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি তমোগ্ন ঘোষ প্রমুখ। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরভোটে এমন প্রার্থীদেরই অগ্রাধিকার দিতে চাইছে বিজেপি, যাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা আছে এবং যাঁদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ। অর্থাৎ, শুধুমাত্র দলীয় আনুগত্য নয়, ভোটে জেতার ক্ষমতা ও স্থানীয় স্তরে জনসংযোগও প্রার্থী নির্বাচনের অন্যতম মাপকাঠি হতে চলেছে।
কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা দখলের লড়াইকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ওয়ার্ডভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে প্রাথমিক স্তরে বাছাই শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক দাবিদারের নাম উঠে আসায় চূড়ান্ত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে চাইছে দল। স্থানীয় স্তর থেকে প্রস্তাবিত নামগুলি যাচাই করে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের স্তরে পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোনও একক নেতার পছন্দের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই না করে সাংগঠনিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও আগেই দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, এলাকায় পরিচিতি এবং দুর্নীতি বা অপরাধের অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হবে দলীয় তরফে। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা নেতাদের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির স্থানীয় মুখেরাও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে গুরুত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের খবর। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কারা টিকিট পাবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
পাশাপাশি প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অসন্তোষ এড়াতে বুথ ও ওয়ার্ড স্তর থেকে উঠে আসা নাম যাচাই করে সাংগঠনিক স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং হাওড়া পুরভোটের দায়িত্বে সাংসদ রাহুল সিনহার মতো নেতাদের ভূমিকা এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের সাতটি পুরনিগম ও পুরসভায় আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বিজেপি আগেভাগেই সংগঠন ও প্রচারের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে চাইছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে অক্টোবরের শেষ দিকে বা নভেম্বরের গোড়ায় প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে সল্টলেকের বৈঠকের তাৎপর্য শুধু প্রার্থী বাছাইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। পুরভোটের লড়াইয়ে সংগঠনের শক্তি, স্থানীয় স্তরে গ্রহণযোগ্যতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে জনসমর্থন বাড়ানোর কৌশল সাজাতে চাইছে বিজেপি।