ব্রিকস সম্মেলনের আগেই মোদি ও পুতিন বৈঠক, কী কী কথা হল দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে?
বন্দে মাতরম সংবাদ- আঠারোতম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভারতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সাক্ষাতের তাৎপর্য অপরিসীম। বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা?
বৈঠকে দুই নেতা ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে আরও সহজ ও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও প্রাধান্য পেয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন সংকটসহ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শান্তি ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর ভারত বরাবরই যে জোর দিয়ে আসছে, মোদি তা পুতিনের কাছে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জি-৭ বনাম ব্রিকস এবং বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব: পুতিন তার বক্তব্যে ঐতিহ্যগত পশ্চিমা দেশগুলোর জোট জি-৭ (G7)-এর কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যেখানে জি-৭ দেশগুলোর বিশ্ব উৎপাদনে অংশীদারিত্ব কমে মাত্র ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ব্রিকস জোটের সম্মিলিত অংশ প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতা এখন পুরনো পশ্চিমা শক্তিগুলোর হাত থেকে সরে নতুন উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর হাতে চলে আসছে।
ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোর প্রশংসা: ব্রিকস বিজনেস ফোরামে ভাষণ দেওয়ার সময় পুতিন ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।
অনন্য বাণিজ্য জোট ও সহযোগিতা: বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাঝে ব্রিকস যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুতিন জানান যে, এই জোট অন্যান্য দেশের সঙ্গেও পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য সবসময় উন্মুক্ত রয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের সমালোচনা: তাঁর বক্তব্যে তিনি বিশ্ব ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটার প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা ও নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেন।
এই বৈঠকটি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই সত্ত্বেও নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যকার কূটনৈতিক ও বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক কতটা দৃঢ় সেটি প্রমাণ করল আজ দুই রাষ্ট্রনেতা মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।