Rahul Arunoday Banerjee : ‘ভূতু আয়া ভাগো’, প্রেক্ষাগৃহে রাহুলের শেষ ছবি দেখতে উপচে পড়া ভিড়
রিয়া রায়, বারাসত: অবশেষে বাংলার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ ছবি ‘ভূতু আয়া ভাগো’। তালসারি সমুদ্র সৈকতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় রাহুলের। তাঁর এই অকালপ্রয়াণ মেনে নিতে পারেনি বাংলার দর্শক। অভিনেতার শেষ সিনেমা দেখতে গিয়ে প্রেক্ষাগৃহে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন দর্শকরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার রূপকথা সিনেমা হল-সহ একাধিক প্রেক্ষাগৃহে এদিন প্রদর্শিত হয় ছবিটি।
ছবির গল্প তৈরি হয়েছে তিন বন্ধু রাজীব, অপু এবং শ্যামলকে ঘিরে। প্রথমে নিছক মজা এবং নিজেদের স্বার্থে ভূতের ঘটনা সাজিয়ে মানুষকে ভয় দেখাত তারা। সেই সাজানো ভূতের কাণ্ডের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিন বন্ধু। এরপর ভূতকে কেন্দ্র করে কনটেন্ট তৈরি করাই তাঁদের কাছে এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়।
কিন্তু গল্পে মোড় আসে যখন তারা যে ভূতের অস্তিত্বকে এতদিন সাজানো ঘটনা বলে দাবি করেছিল, সেই অতিপ্রাকৃত জগতের সঙ্গেই সত্যিই যোগাযোগ ঘটে যায়। শুরুতে হাসি-মজার আবহ থাকলেও গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে যায় ভয়, রহস্য এবং টানটান উত্তেজনায়।
ছবিতে রাহুল অরুণউদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন আরিয়ান ভৌমিক, দেবরাজ ভট্টাচার্য, শ্রীমা ভট্টাচার্য, শ্রীলেখা মিত্র এবং মৌমিতা পণ্ডিত। তবে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আবেগের অন্যতম বড় কারণ রাহুলের উপস্থিতি। মৃত্যুর আগে তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা হিসেবে ‘ভূতু আয়া ভাগো’ ইতিমধ্যেই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
হাবরার রূপকথা সিনেমা হল সহ বারাসাতের লালি ও জেলার বিভিন্ন সিনেমা হলে ছবিটি দেখে দর্শকদের একাংশ রাহুলের অভিনয়ের প্রশংসা করেন। তাঁদের কথায়, পর্দায় রাহুলকে শেষবারের মতো দেখতে পাওয়ার অনুভূতিই আলাদা। সিনেমার গল্প, রহস্য ও রাহুলের অভিনয় দর্শকদের টেনে রাখছে বলেও জানান তাঁরা। দর্শকদের অভিব্যক্তি বলছে, রাহুলের অভিনীত শেষ সিনেমাটি দেখার আগ্রহ আগামী দিনেও আরও অনেক দর্শককে প্রেক্ষাগৃহমুখী করতে পারে।