মাদক ও অস্ত্রের বিপুল ভাণ্ডার উদ্ধার! পুলিশের জালে দুই অভিযুক্ত
অনুসূয়া সিনহা, পশ্চিম বর্ধমান:
মাদক কারবারের আড়ালে কি সক্রিয় ছিল অস্ত্রের বেআইনি লেনদেন? বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার, আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, নগদ টাকা এবং সোনা-রুপোর গয়না উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমনই একাধিক প্রশ্ন সামনে উঠে এসেছে আসানসোলে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ ও আসানসোল উত্তর থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় মাদক ও অস্ত্রের কারবারের সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর কোনও চক্রের সন্ধান মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে ৩০০ গ্রামেরও বেশি ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র। একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৭ এমএম পিস্তল এবং ছয় চেম্বারবিশিষ্ট একটি রিভলভার। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে মিলেছে ৪৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং দু’টি খালি কার্তুজ। বিপুল পরিমাণ মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র একসঙ্গে উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
তবে এখানেই শেষ নয়।অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা, প্রায় ১৬০ গ্রাম সোনার গয়না এবং ৩০০ গ্রাম রুপোর গয়না। সেই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি মোটরসাইকেল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিপুলতা দেখে তদন্তকারীরা প্রতিটি সূত্র খতিয়ে দেখছেন। নগদ টাকা ও গয়নার উৎস কী, সেগুলি কোনও অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
ইতিমধ্যেই আসানসোল উত্তর থানায় মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ সংক্রান্ত আইন (এনডিপিএস) এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্রাউন সুগারের উৎস, অস্ত্রগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এই কারবারের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর কোনও মাদক ও অস্ত্রের চক্রের যোগ থাকতে পারে।ধৃতদের জেরা করে এই বেআইনি কারবারের নেপথ্যে থাকা অন্যদের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।