ব্রেকিং

দত্তপুকুরে গাড়ি থেকে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার গ্রেফতার শোরুম মালিক, তদন্তে এনআইএ ও এনএসজি

Friday, 23 October 2026 at 00:07 Superadmin
Share
দত্তপুকুরে গাড়ি থেকে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার গ্রেফতার শোরুম মালিক, তদন্তে এনআইএ ও এনএসজি

রিয়া রায়, বারাসত:


উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় রাকিবুল ইসলাম নামে এক বাইক শোরুমের মালিককে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ বলে সূত্রের খবর। ধৃতের গাড়ি থেকে প্রায় তিন কেজি বিস্ফোরক এবং প্রায় ১০ কেজি স্প্লিন্টার উদ্ধার হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরক কোথা থেকে আনা হচ্ছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং এর পিছনে অন্য কারও(জঙ্গি সংগঠন) যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের খবর, দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা এলাকায় একটি গাড়িতে বিস্ফোরক মজুত থাকার খবর আগে থেকেই বেঙ্গল এসটিএফের কাছে ছিল। সেই সূত্র ধরেই গাড়িটির উপর নজরদারি শুরু হয়। পরে রাতেই গাড়িটি আটক করে গাড়ির মালিক রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক নিয়ে কলকাতার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল গাড়িটির। তবে কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


জানা গিয়েছে, রাকিবুল ইসলাম প্রায় ১০ বছর আগে মেকানিকের কাজ ছেড়ে বাইকের শোরুমের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা, বিড়া এবং দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর চারটি শোরুম রয়েছে। সূত্রের দাবি, কয়েকবছর আগে আমডাঙায় একটি বাইকের শোরুমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই শোরুমের মালিকও ছিলেন রাকিবুল ইসলাম বলে জানা যাচ্ছে। যদিও আগের সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমানে বিস্ফোরক উদ্ধারের এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। 


এদিকে, রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে নেমে তল্লাশি চালায় এনআইএ, এনএসজি, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল, সিআইডি এবং পুলিশের বম্ব স্কোয়াড। ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সামগ্রীও পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে অ্যামোনিয়া, সিঁদুর এবং জালের লোহার কাঁটিও রয়েছে। তবে বিস্ফোরকগুলির প্রকৃতি ও কার্যক্ষমতা পরবর্তীতে পরীক্ষা করে দেখা হবে। রাকিবুলের বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াতের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। ব্যবসায়িক কারণে তাঁর বাংলাদেশে যাতায়াত ছিল কি না, তার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়িটি দু’দিন আগে থেকে দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা রোডের (রোড কিং)শোরুমের পাশে রাখা ছিল বলেও জানা গিয়েছে।


 বারাসাত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এম মার্সি জানান, তদন্ত চলছে। কী প্রকৃতির বিস্ফোরক তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। বাকিটা তদন্ত হওয়ার পর বলা যাবে।