বড়োসড়ো বিপদের মুখে বদ্রীনাথ! ধবংস হয়ে যেতে পারে দেবভূমি
বন্দে মাতরম
সংবাদ
বড়োসড়ো বিপদের মুখে উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ। শুধু মন্দির হয়, স্থানীয় জনবসতি, কৃষিভূমি সবই ঝুঁকির মুখে। বদ্রীনাথের মাথার ওপরে রয়েছে তিনটি ঝুলন্ত হিমবাহ! যা ভাঙলেই যেকোনও মুহূর্তে ভয়াবহ তুষারধস তছনছ হয়ে যাবে বদ্রীনাথ! ধবংস হয়ে যেতে পারে দেবভূমি।
ছাব্বিশে পর পর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। ভুটানের হ্রদ ভেঙে সংকোশ নদীর জলোচ্ছ্বাস, নেপাল বিপর্যয় চিন্তা বাড়িয়েছে। এবার ঝুঁকির মুখে বদ্রীনাথ, এমনটাই উঠে এসেছে গবেষণায়। ‘ভারতের হিমালয়ের বদ্রীনাথ জনপদে ঝুলন্ত হিমবাহ থেকে সৃষ্ট তুষারধসের ঝুঁকি মূল্যায়ন’-শীর্ষক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বদ্রীনাথের উপর ঝুলে থাকা ৩টি ঝুলন্ত হিমবাহের মধ্যে কোনও একটিতে ফাটল ধরলে সেখান থেকে বরফেরস্রোতে জনপদ, বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, কৃষি জমিকে ভাসিয়ে দিতে পারে। সব কিছু বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা। এই সব কিছু নির্ভর করছে বরফ কতদূর ধেয়ে আসবে তার ওপরে। এছাড়াও পাহাড়ের ঢাল কতটা, জমির গঠন সব কিছুরই উপর নির্ভর করবে ক্ষতি পরিমাণ।
গবেষণা বলছে, যে কোনও তুষারধসের আচরণ কেমন হবে, তা কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নেবে, কত দূর বিস্তার লাভ করবে তা সব কিছু নির্ভর করবে সেই পথের আকৃতি এবং নিচের ভূপ্রকৃতির উপরও। গবেষণায় বিপদ এড়াতে কিছু সতর্কতার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে আলাদা করে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে নির্মাণকার্যের উপর নিয়ন্ত্রণের উপর নজর রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় কারও হাতে থাকে না, তবে ক্ষতি এড়াতে আগেইভাগেই সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুন মাসে মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং হড়পা বানের কারণে পুরো উত্তরাখণ্ড জুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা ঘটে। বদ্রীনাথ রুটে জোশীমঠ থেকে গোবিন্দঘাট এবং পণ্ডুকেশ্বর পর্যন্ত একাধিক স্থানে রাস্তা ধসে গিয়ে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী আটকা পড়েছিলেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চামোলির ঋষি গঙ্গা ও ধৌলি গঙ্গা উপত্যকায় হিমবাহ ভেঙে হঠাৎ প্লাবন ঘটে, যার প্রভাব বদ্রীনাথ সংযোগকারী অঞ্চলে পড়েছিল।
বদ্রীনাথ ধামের মূল প্রবেশদ্বার বলা হয় জোশীমঠকে। ২০২৩ সালের শুরুতে জোশীমঠের বসতি ও জাতীয় সড়কে ব্যাপক ফাটল দেখা দেয়, যা বদ্রীনাথ যাত্রার নিরাপত্তাকে তীব্র ঝুঁকিতে ফেলেছিল।