ব্রেকিং

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ ও ভিটো ক্ষমতার দাবি জোরালো করল ভারত

Tuesday, 27 October 2026 at 15:17 Superadmin
Share
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ ও ভিটো ক্ষমতার দাবি জোরালো করল ভারত

বন্দে মাতরম সংবাদ


বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি ফের তীব্র করেছে ভারত। কেবল স্থায়ী সদস্যপদ লাভই নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন স্থায়ী সদস্যদের হাতেও সমানভাবে 'ভিটো' বা ভেটো ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধির কার্যালয় থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পুরনো কাঠামোর উপর ভর করে আর বিশ্ব পরিচালনা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান স্থায়ী পাঁচ সদস্যের একাধিকার ভেঙে বিশ্বের সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।


এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার মতো জনবহুল ও প্রভাবশালী অঞ্চলগুলিকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদে জায়গা দেওয়া। নতুন স্থায়ী সদস্যদের শুধুমাত্র প্রতীকী বা আংশিক সদস্যপদ দেওয়া বৈষম্যমূলক। সত্যিকারের সংস্কারের স্বার্থে পুরনো স্থায়ী সদস্যদের মতো নতুন স্থায়ী সদস্যদেরও সমানভাবে ভিটো ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। পরিষদের কার্যকারিতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বৃহত্তর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক সংস্কার অবশ্যম্ভাবী।

গত কয়েক দশক ধরে ভারত, জাপান, জার্মানি এবং ব্রাজিল সমন্বিতভাবে গঠিত 'জি-ফোর' জোটের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে বর্তমান স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্রের (আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স) নানাবিধ স্বার্থের সংঘাত এবং ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কার কারণে এই সংস্কার প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে আটকে রয়েছে। বিশেষ করে বড় দেশগুলির পারস্পরিক ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে রাষ্ট্রপুঞ্জ অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক সংকটে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা রয়েছে।


আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর জোরালো করতে ভারতের এই দাবি অত্যন্ত সময়োপযোগী। আগামী দিনে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভা এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ইস্যুটিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে বৈশ্বিক ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা চালাবে নয়াদিল্লি।