ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো, সরকারি হাসপাতালে আর টানা ছুটি নয়, ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
বন্দে মাতরম সংবাদ, কলকাতা:
‘স্বাস্থ্যদফতর বাকি আর পাঁচটা দফতরের মতো নয়। এটি আপতকালীন দফতর। এখানে সাতদিনে ২৪ ঘণ্টা মানুষের পরিষেবা দিতে হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই একটি অঘোষিত রেওয়াজ ছিল রাজ্যে, ষষ্ঠী থেকেই অফিসে পুজোর আমেজ। সেই ছুটির রেশ চলে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। আগামী বছর থেকে এই রেওয়াজ বন্ধ হবে।’ আগামী বছর থেকে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্মী আধিকারিকদের দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি বন্ধের কথা শুক্রবার ঘোষণা করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘পরেরবার থেকে সপ্তমী থেকে দশমী পুজোর রস্টার হবে হাসপাতালের সকলের জন্য। যাঁরা ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে আজ থেকেই কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
উৎসবের মরসুমে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের অনুপস্থিতিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিকে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো হাসপাতালের অধ্যক্ষা-সহ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একাংশ অনুমতি না নিয়ে গরহাজির ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এদিন বৈঠকও করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। চিকিৎসকদের একাংশের অনুপস্থিতি নিয়ে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কাজ করানোর জন্য নির্দেশিকা জারি করতে হবে, এটা তো লজ্জাজনক ব্যাপার। আপনি চাকরি করছেনই তো কাজ করার জন্য। সরকারি কর্মচারী মানে জনগণের কর্মচারী। জনগণের রাজস্বের টাকায় আমাদের পরিষেবা চলে। আমাদের তাই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। স্বাস্থ্য দফতর আপৎকালীন দফতর। আমাদের পুজো নেই, ইদ নেই, বড়োদিন নেই। আমাদের ২৪ ঘণ্টা সাত দিনের কাজ।’
অন্যদিকে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জানা নেই, আমাদের অনুমতি ছাড়া ওই হাসপাতালের অধ্যক্ষা, এমএসভিপি, মেডিক্যাল সুপারের ৬ জনের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে ছিলেন। কারণ জানা যায়নি। সাফাই কর্মচারী বা ওয়ার্ড বয় স্তরের লোক দেওয়া রয়েছে, সাফাই করার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দেওয়া রয়েছে। প্রত্যেককে শোকজ করা হয়েছে।’
উৎসবের মরসুমে সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক এবং অন্য আধিকারিকদের হাজিরা কম থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দফতর। রোগীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেব্যাপারে সতর্ক স্বাস্থ্য দফতর। সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, সুপার, উপাধ্যক্ষ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার এবং সাফাই কর্মীদের একাংশকে এদিনের বৈঠকে ডাকা হয়।
এদিকে চোরবাগান বিপর্যয়ের পরে চিকিৎসকদের একাংশের অনুপস্থিতির বিষয়টি বিশেষ ভাবে নজরে আসে স্বাস্থ্য দফতরের। এমনকী বিনা অনুমতিতে কয়েকজন ছুটি নিয়েছেন বলেও জানতে পারেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘কারা সেদিন ডিউটিতে ছিলেন, কারা ছিলেন না, আমার মনে হয় না স্বাস্থ্যমন্ত্রী তা দেখাশোনা করবেন। তা দেখা প্রত্যেক হাসপাতালের নিজেদের দায়িত্ব। সেটা আমি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। এর ওপর বিষয়টি দেখার জন্য স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আছেন। তাঁরা সকলেই এমডি, এমএস ডিগ্রি নেওয়ার সময় উপাচার্য, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষের অধীনে থাকেন। এক্ষেত্রে আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটা তাঁদের দায়িত্ব। তাঁরা যদি মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন, আমি পরামর্শ দেব।’
এদিকে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সোমবার তাঁর এক পরিচিতের বাবার মৃত্যু হওয়ায় দেবেন মাহাতো হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা ও অব্যবস্থার বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কিছু মানুষ সরকারকে বদনাম করার জন্যই এই ধরনের কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই সেই ঘটনায় হাসপাতালের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং পাঁচ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে শোকজ করা হয়েছে। ওই হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালগুলির পরিচ্ছন্নতায় যাতে খামতি না থাকে, তার জন্যই আমাদের এই বৈঠক। একটি হাসপাতালের ঘটনা সাংসদ নিজে সামনে এনেছেন। তার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয়।’