Donald Trump: গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার দখলে! দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
বন্দে মাতরম, সংবাদ: গ্রিনল্যান্ড দখল করে নিয়েছে আমেরিকা! এমনটাই দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এটাই এখন আলোচনার বিষয়। জানা গেছে, আমেরিকা সরাসরি গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে কিনে নেয়নি বা এর সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেয়নি, বরং একটি বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তি (Security Agreement) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবার আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে, এমনটাই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছে, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এই চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় উদ্বেগের পূর্ণ সমাধান হবে। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনও অর্থ ব্যয় হবে না! আমার নির্দেশনায়, আমরা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সাথে কাজ করেছি যাতে নিশ্চিত করা যায় যে, গ্রিনল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনে যা কিছু করা দরকার, তা করার পূর্ণ ও চিরস্থায়ী ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে। এছাড়া, এখন থেকে আমাদের সুস্পষ্ট লিখিত অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রতিপক্ষ গ্রিনল্যান্ডে কোনও ঘাঁটি স্থাপন, সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা কিংবা কোনো সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না।
১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন, কিন্তু কেউই এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেননি। আমি গর্বিত যে, আমিই সেই প্রেসিডেন্ট যিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টির স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধান করেছি। এটি একটি ‘অসীম মেয়াদী’ (Infinite Life) চুক্তি; এর কোনও সমাপ্তি নেই! যা কিছু ঘটেছে তাতে আমরা অত্যন্ত সম্মানিত ও গর্বিত, আজ যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তা আমেরিকান জনগণের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ও সমাদৃত হবে। আমরা অবিলম্বে গ্রিনল্যান্ডের উপযুক্ত কোনও অংশে—যার মধ্যে অনেকগুলো স্থান রয়েছে—একটি বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করব। এর উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে আমরা গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সাথে মিলে কাজ করব। এই সমাধানটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড এবং আমাদের সকল মিত্রদেশের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি বিষয়। বিশাল আয়তনের ও অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন এই ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে এক মহিমান্বিত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের চমৎকার মানুষদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমরা উন্মুখ হয়ে আছি। আমরা এর সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব! এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি স্বপ্নপূরণের মতো ঘটনা—যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিক এবং বিশেষ। এই বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’
যে চুক্তিটি হয়েছে, তার বিষয়বস্তু হল-
সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও ঘাঁটি: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমেরিকার স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি ও ঘাঁটি আরও বাড়াতে পারবে।
সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ: ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে। অর্থাৎ, এটি কোনও রাজনৈতিক দখলদারিত্ব নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি।
চীন ও রাশিয়ার প্রবেশাধিকার রোধ: এই চুক্তির সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব কমানো। আমেরিকার অনুমতি ছাড়া এখন থেকে কোনও শত্রুভাবাপন্ন দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি বা স্পর্শকাতর খাতে কোনও ধরনের বিনিয়োগ করতে পারবে না।
আসন্ন স্বাক্ষর: আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে আমেরিকা, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা পরবর্তীতে নিজ নিজ দেশের সংসদে অনুমোদিত হবে।