বর্ধমানে পুলিশের জালে বর্ধমানের ভুয়ো চিকিৎসক
পত্রলেখা বসু, পূর্ব বর্ধমান: অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল বর্ধমানের ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুল হক। মঙ্গলবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। বর্ধমানের নার্সিংহোমে এক শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই দুবাইয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল সে। স্ত্রী অলিভিয়া খাতুনকে নিয়ে পাকাপাকিভাবে ফের দুবাইয়ে পালানোর ছক কষেই দেশে ফিরেছিল সাইদুল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় সে। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার একটি বিশেষ দল তৎক্ষণাৎ দিল্লিতে পৌঁছায়। গ্রেফতারি এড়াতে চুল-দাঁড়ি কেটে নিজের সম্পূর্ণ ভোলবদল করেছিল এই ভুয়ো চিকিৎসক। তবে পুলিশের কড়া নজরদারির কাছে হার মানতে হয় তাকে। মঙ্গলবারই ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে প্রথমে বিমানে কলকাতায় এবং পরে রাতে কড়া নিরাপত্তায় গাড়িতে করে বর্ধমানে আনা হয়। বুধবার তাকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।
গত ২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অস্ত্রোপচারের সময় মৃত্যু হয় চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের। এই অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে ছিলেন সাইদুল। এই ঘটনায় তোলপাড় হয় বর্ধমান সহ সারা রাজ্য। এই ঘটনায় উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যেই নার্সিংহোমটি সিল করে দেয় জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এবং নার্সিংহোমের দুজন মালিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুল হক। দেশ ছেড়ে পালায় অভিযুক্ত। তাকে ধরতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর লুক আউট নোটিশ জারি করে পুলিশ।