মহাষ্টমীর সকালে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো, দেবীজ্ঞানে পূজিতা পাঁচ বছরের দেবাদৃতা
সুমন আদক, হাওড়া:
সোমবার মহাষ্টমীর পুণ্যলগ্নে বেলুড় মঠে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার আবহে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী কুমারী পুজো। বেলুড় মঠের দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে সকাল থেকেই ভক্তদের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
এবছর কুমারী হিসেবে পূজিতা হলেন দেবাদৃতা বন্দোপাধ্যায়। তাঁর পিতা সৌম্যকান্তি বন্দোপাধ্যায় এবং মা চন্দ্রলেখা বন্দোপাধ্যায়। রিষড়ার বাসিন্দা দেবাদৃতার জন্ম ২৮ ডিসেম্বর ২০২০। ভরদ্বাজ গোত্রের এই কন্যাকে মহাষ্টমীর সকালে দেবীজ্ঞানে পুজো করা হয়। হিন্দু শাস্ত্র ও রামকৃষ্ণ ভাবধারায় কুমারী পুজোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্পাপ শিশুকন্যার মধ্যে দেবীশক্তির প্রকাশ ঘটে। তাই জীবন্ত দেবীজ্ঞানে কুমারীকে পুজো করে নারীশক্তি ও মাতৃশক্তির আরাধনা করা হয়।
বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর ইতিহাসের সঙ্গে কুমারী পুজোর ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দের উদ্যোগে বেলুড় মঠে প্রথম প্রতিমা-সহ দুর্গাপুজো শুরু হয়। স্বামী বিবেকানন্দের কাছে নারী ছিলেন মাতৃশক্তির জীবন্ত প্রকাশ।নারীশক্তির অন্তর্নিহিত দেবীত্বকে শ্রদ্ধা জানাতে তিনি কুমারী পুজোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবও বালিকাদের মধ্যে জগজ্জননীর প্রকাশ অনুভব করতেন। বেলুড় মঠের ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহাষ্টমীতে একজন কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পুজো করা হয়। দেবীর মতোই কুমারীকে পুজোর উপাচার নিবেদন করা হয় এবং শেষে আরতি সম্পন্ন হয়। মঠের সন্ন্যাসীরাও কুমারীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। মহাষ্টমীর এই বিশেষ আরাধনার মধ্য দিয়ে বেলুড় মঠে ফের প্রতিফলিত হল মাতৃশক্তির বন্দনা, নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গভীর দর্শন।