প্রতিমাকে সম্মান জানিয়ে বিদায়, নিরঞ্জনে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
বন্দে মাতরম সংবাদ, কলকাতা:
এবার প্রতিমা বিসর্জনে নিরাপত্তা জোরদার করল প্রশাসন। বুধবার বাবুঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ ও এনডিআরএফের আধিকারিকদের সঙ্গে সুষ্ঠু ভাবে নিরঞ্জন সম্পন্ন করার বিষয়টি নিয়ে কথাও বলেন তিনি। সেইসঙ্গে জলপথের ঘাটগুলির পরিদর্শন করেন তিনি। নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য কলকাতার ২৮টি গঙ্গার ঘাট, আদিগঙ্গার পাঁচটি ঘাট এবং ৩৪টি জলাশয় ও সরোবরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের প্রায় ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলেও রয়েছে পুলিশ পিকেট। বিসর্জনের নিরাপত্তা তদারকিতে দায়িত্বে রয়েছেন ১৮ জন আইপিএস আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে কলকাতায় ১২ জন এবং হাওড়া, ব্যারাকপুর ও চন্দননগরে দু’জন করে থাকছেন। দুপুরের পর থেকে ঘাটে ঘাটে বিসর্জন শুরু হয়। এবার প্রতিমা নিরঞ্জনে আর ক্রেন রাখা হয়নি। সেই জায়গায় অতিরিক্ত ট্রলি ও কুলি রাখা হয়েছে ঘাটগুলিতে। দুর্ঘটনা এড়াতে ২৫টি লাইফ সেভিং নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিমতলায় ন’টি ও বাবুঘাটে ১২টি ট্রলি রাখা হয়েছে। থাকছেন ৩০০ জন কুলি। দ্রুত কাঠামো সরানো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘাটগুলিতে রয়েছে এনডিআরএফের দল, জলপথেও চলবে নজরদারি। ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে ঘাটগুলিতে বিশেষ পুলিশি তৎপরতা থাকছে। প্রস্তুত আছে পুরসভার অ্যাম্বুল্যান্স। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গঙ্গায় ৬০৪টি প্রতিমার নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়েছে।
ইতিমধ্যেই প্রতিমা নিরঞ্জনে সাবধানতা অবলম্বন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার একাধিক জরুরি বৈঠক করেছেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীও বলেছেন, এবার নিরঞ্জনে প্রতিমাকেও সম্মান দেখিয়ে বিদায় জানানো হবে। ক্রেনে প্রতিমা তুলে বিসর্জন দিতে গিয়ে এর আগে বারবার দেখা গিয়েছে তা ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু তার কোনও সুরাহা কোনওবারই হয়নি। এবার তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উলটোদিকে টাকির বিসর্জন নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে জেলাতেও রাজ্য সরকারের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে ইছামতীতে বিসর্জনের সময়ে লাইফ জ্যাকেট, বিএসএফ-এর সাহায্য এবং এনডিআরএফ-এর একটি দল মোতায়েন রাখার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশাসনের আধিকারিকদেরও সেখানে রাখা হয়েছে।