Cyclone Arnab: প্রবল গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! কোথায় ল্যান্ডফল? কতটা প্রভাব পড়বে কলকাতায়?
বন্দে মাতরম, সংবাদ: আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস সত্যি করে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ এবং সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় তৈরির আশঙ্কা নিয়ে আবহাওয়া মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শক্তি বাড়িয়ে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে। ‘অর্ণবে’র গতিবিধির দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।
থাইল্যান্ড ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরমুখী একটি ঘূর্ণাবর্ত থেকে বঙ্গোপসাগরের মধ্য ও উত্তর অংশে এই নিম্নচাপ বা সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি দানা বাঁধছে। আবহাওয়া দফতরের নিয়ম অনুযায়ী উত্তর ভারত মহাসাগরে তৈরি হতে যাওয়া পরবর্তী ট্রপিক্যাল সাইক্লোনটির নাম হবে ‘অর্ণব’, যা প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। এর অর্থ 'সমুদ্র'।
মৌসম ভবনের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, এখনও এটিকে নিশ্চিত ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ঘোষণা না করলেও, এটি ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বিশেষ করে ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই নিম্নচাপটি চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে। এই সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা কিংবা পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই নিম্নচাপটির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে, বিশেষত উপকূলীয় জেলাগুলিতে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলছে। মাঝে মধ্যে রোদের দেখা মিলছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর এই নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল। এর অবস্থান ছিল মোটামুটি ১৭.৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছে। অর্থাৎ ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং গোপালপুর থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল সিস্টেমটি। আজ অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বরে মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপের রূপ নিতে চলেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাত বা পরদিন ভোরের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি এলাকায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মাঝামাঝি উপকূল দিয়ে স্থলভাগে এক ঘূর্ণিঝড়ের দাপট শুরু হতে পারে। সরাসরি না হলেও এর প্রভাব পড়বে বাংলার আবহাওয়ায়।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গে আজ দিনভর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সেইসঙ্গে বইতে পারে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। ওই দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ায় বৃষ্টি হবে। কলকাতাতেও নিম্নচাপের জেরে আগামী দু’দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বেলার দিকে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে, সেই সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।
নিম্নচাপের শক্তিবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উত্তাল হচ্ছে সমুদ্র। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাব পড়বে উত্তরবঙ্গে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুরে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে।