পুজোর ভিড়ের মধ্যে যশোর রোডে লরি চলাচল নিয়ে উদ্বেগ, প্রশাসনের কাছে যান নিয়ন্ত্রণের আর্জি
কুন্তল চক্রবর্তী, বনগাঁ: পুজোর মরসুমে রাতভর দর্শনার্থীদের ভিড়। তার মধ্যেই ভোররাতে বনগাঁ বাটার মোড় থেকে কলকাতার দিকে ছুটছে পণ্যবোঝাই লরি। ফলে একদিকে যেমন পুজোমণ্ডপ ও শহরের রাস্তায় বাড়ছে দর্শনার্থীদের চাপ, তেমনই লরি চলাচলের পর ভোরবেলা যশোর রোড-সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। এই পরিস্থিতিতে সকাল ৬টা পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বনগাঁ নগর কার্যবহ সন্ত শিকদার বলেন, পুজোর সময় বনগাঁ শহরে রাতভর মানুষের ভিড় থাকে। ভোররাতে পণ্যবোঝাই লরি চলাচল করায় যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তাঁর বক্তব্য, সকাল ৬টা পর্যন্ত যশোর রোড এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি না ছাড়াই ভালো। এতে দর্শনার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলে সুবিধা হবে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গ্রামীণ খণ্ডের শারীরিক শিক্ষা প্রমুখ জগন্নাথ মণ্ডল বলেন, ‘পুজোর সময় সারা বনগাঁ মহকুমার মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে বনগাঁ শহর। বহু মানুষ সারা রাত জেগে প্রতিমা দর্শন করেন। ফলে ভোরের দিকে রাস্তায় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। সেই সময় পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি যানজটও বাড়ে। তাই সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রশাসনের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা উচিত।
পুজোর দিনগুলিতে বনগাঁ শহর ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা গেলে একদিকে যেমন দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বাড়বে, তেমনই ভোরবেলার যানজটও অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।’
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, পুজোর সময় রাতভর ভিড়ের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই যান নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা দরকার। বিশেষ করে যশোর রোড, বনগাঁ বাটার মোড় এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলিতে পণ্যবাহী গাড়ির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
পুজোর ভিড় ও পণ্যবাহী লরির চলাচল—এই দুইয়ের সংঘাতে প্রতি বছরই বনগাঁয় যানজটের সমস্যা দেখা দেয়। এবার সেই সমস্যা এড়াতে সকাল ৬টা পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর শহরবাসীর।