ব্রেকিং

চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু কলেজছাত্রীর, এলাকায় শোকের ছায়া

Sunday, 18 October 2026 at 19:55 Superadmin
Share
চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু কলেজছাত্রীর, এলাকায় শোকের ছায়া
স্নেহা ভাণ্ডারী (ফাইল ছবি)

বন্দে মাতরম সংবাদ, বিষ্ণুপুর: 

 

উৎসবের আনন্দে সামিল হতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন দুই বোন। উদ্দেশ্য ছিল কলকাতার পুজোমণ্ডপে ঠাকুর দেখা। কিন্তু সেই আনন্দের সফর যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পরিবারের কেউ। চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল বিদ্যানগর কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী স্নেহা ভাণ্ডারী(২০)-র। রবিবারের আগে শনিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত এগারো গ্রামে। শোকস্তব্ধ পরিবার, প্রতিবেশী থেকে পরিচিত সকলেই।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর একটা নাগাদ ছোট বোন নেহা ভাণ্ডারীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন স্নেহা। নেহা নবম শ্রেণির ছাত্রী। দুই বোনের পরিকল্পনা ছিল কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ ঘুরে দেখা। সেই মতো তাঁরা পৌঁছন চোরবাগান এলাকায়। কিন্তু মণ্ডপে ঠাকুর দেখার সময় আচমকাই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন স্নেহা। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।


মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্নেহার ছোট বোন নেহা ভাণ্ডারী। দিদিকে চোখের সামনে হারানোর যন্ত্রণা এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছে না সে। নেহার কথায়, দিদির সঙ্গে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলাম। সেই সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর সামনের দিক থেকে প্রচুর মানুষ পিছনের দিকে আসতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চারদিকে মানুষের ছোটাছুটি, চিৎকার আর হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। কী ঘটছে, তা বুঝে ওঠার আগেই বিপর্যয় ঘটে যায়।

নেহা জানায়, সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সেও আহত হয়েছে। চারদিকে প্রচুর মানুষ চিৎকার করছিলেন। দিদিও চিৎকার করছিল, সেও চিৎকার করছিল। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দিদিকে বাঁচানোর সুযোগটুকুও যেন পায়নি সে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে।


অন্যদিকে, স্নেহার মা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সময় দুই মেয়ে তাঁকে ফোন করে জানায়, তারা কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাচ্ছে। দুপুর একটা নাগাদ দুই বোন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু তারপর যে এমন মর্মান্তিক খবর শুনতে হবে, তা তিনি ভাবতেও পারেননি। 

তিনি জানান, আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি। যে মেয়েকে ঘিরে ছিল পরিবারের নানা স্বপ্ন, সেই মেয়ের এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া বিধানসভার অন্তর্গত বিষ্ণুপুর থানার পঞ্চানন গ্রাম পঞ্চায়েতের এগারো গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা। তাঁর বাবা পেশায় টোটোচালক। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন স্নেহা। বিদ্যানগর কলেজে স্নাতক স্তরের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল নানা স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। কিন্তু পুজোর আনন্দে ঠাকুর দেখতে গিয়ে সেই স্বপ্নের এমন করুণ পরিণতি হবে, তা ভাবতে পারছেন না পাড়া প্রতিবেশীরা।


শনিবার রাতে স্নেহার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছতেই শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতিবেশীদের কাছে পরিচিত মুখ ছিলেন স্নেহা। উৎসবের মরসুমে যে বাড়িতে আনন্দ থাকার কথা, সেই বাড়িতেই এখন শুধুই কান্না আর শূন্যতা। ছোট বোনের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা এবং মায়ের অসহায় আর্তনাদ আরও ভারী করে তুলেছে গোটা পরিস্থিতিকে।


এই ঘটনার পর উৎসবের আনন্দ যাতে কোনও ভাবেই প্রাণহানির কারণ না হয়ে ওঠে, তার জন্য পুজোমণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এল।


একদিকে মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আলো, অন্যদিকে বিষ্ণুপুরের এগারো গ্রামে এক পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার।স্নেহার অকালমৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিল না, উৎসবের ভিড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে এনে দিল।