ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে: শুভেন্দু
পত্রলেখা বসু, পূর্ব বর্ধমান:
চোরবাগান পুজোমণ্ডপের অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রামের বাসিন্দা টগর বেজ এবং তাঁর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছেলে সন্দীপ বেজ। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের বাড়ি পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি বলেন, 'ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়া বা কোনও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো আমাদের লক্ষ্য নয়। অন্য কেউ নিজের কর্তব্য পালন করেনি বলে আমরা আমাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাব না। দুর্গত পরিবারগুলোর মানসিক বল ও সুরাহা জোগানোই এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মূল অগ্রাধিকার।'
তিনি আরও বলেন, 'ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং নিরপেক্ষতার স্বার্থেই তদন্ত প্রক্রিয়ায় কলকাতা পুরসভা বা কলকাতা পুলিশকে রাখা হয়নি।' এর আগে রাজ্যজুড়ে ঘটে যাওয়া একাধিক কেস ও ট্র্যাজেডির উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার বিষয়ে সর্বদা আন্তরিক এবং ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আসন্ন উৎসবের দিনগুলোতে আনন্দের আমেজ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের শোক ও বেদনায় শামিল থাকার বার্তা দেন তিনি। তিনি জানান, উৎসবের প্রস্তুতি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আগামীতে বিস্তারিত চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, স্থানীয় বিধায়ক, জেলা সভাপতি, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা।
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কর্তব্য পালন প্রসঙ্গে বলেন, 'ঘটনায় বলার মতো কোনও ভাষা নেই, তবে কর্তব্য পালন করতে হবে। রাজ্য সরকারের প্রশাসনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে আমাদের নিজস্ব কর্তব্য রয়েছে এবং আমরা তা পালন করছি। অন্যজন তাঁদের কাজ করেনি বলে আমরা আমাদের কাজ করব না, তা তো হতে পারে না। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই আমাদের ধর্ম। আমাদের মুখ্যসচিব গতকালই মহামান্য প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠিয়েছেন, যাতে সিটিং জাজ বা বিচারপতিকে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তদন্ত কমিটি যাতে কোনও ভাবে প্রভাবিত না হয়, সেজন্যই কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ও কলকাতা পুলিশকে তদন্ত কমিটির বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ প্রাথমিক অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় তারা যুক্ত ছিল।ইতিপূর্বে বহু ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বিচার বিভাগীয় বা সিবিআই তদন্তের দাবিতে আদালতে যেতে হয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে বিচারপতি দিয়ে তদন্তের ভার হস্তান্তরের আবেদন করেছি।'
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, 'বিগত বছরগুলোতে উৎসবের সময় বৃষ্টিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু কিংবা হরপা বানের মতো ঘটনাতেও অন্যান্য সরকার কীভাবে আচরণ করেছিল, তা মানুষ দেখেছে। মানুষ আগের সময় ও বর্তমানের তফাত বুঝতে পারছে।'
উৎসব ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, 'উৎসবের সময় ভিড় ও দুর্ঘটনা রোধে যে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো রয়েছে, তা নিয়ে আগামী বছরের পুজো প্রস্তুতির সময় সিএমও এবং প্রশাসনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আমাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যেমন নবরাত্রি পুজো বা পুষ্পাঞ্জলি পালন করা হচ্ছে, তবে এই পরিবারগুলোর শোকের কথা বিবেচনা করে আমরা সার্বিক আনন্দানুষ্ঠান থেকে কিছুটা বিরত থাকার চেষ্টা করছি।'