চোরবাগানে বিপর্যয়, পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১৯, আহত ২৫
বন্দে মাতরম সংবাদ, কলকাতা:
দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল শোক ও আর্তনাদে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু এবং ২৫ জনের আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি ও উপচে পড়া ভিড়ের জেরে এই বিপর্যয় ঘটে। ঘটনার পরেই হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সাহায্য, সরকারি চাকরি এবং আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। সেই সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে বহু মানুষ মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এর জেরে ভিড়ের চাপ বাড়ে এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে ঠেলাঠেলি শুরু হয়। মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন না। যদিও বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত প্রয়োজন।
ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে চিকিৎসা ও আহতদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
বিপর্যয়ের পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতদের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং প্রতিটি পরিবার থেকে একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। আহতদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে সাহায্য করা হবে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আহতদের পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং চিকিৎসার জন্য পরিবারগুলিকে কোনও টাকা খরচ করতে হবে না।
ঘটনার পিছনে কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুজো উদ্যোক্তা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে সরকার।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের উদ্দেশে আবেদন করে জানান, এই শোকের সময়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর না করে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো উচিত।
অপরদিকে চোরবাগানের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের ২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর একাধিক কর্মসূচি বাতিল করে হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এই ঘটনায় গোটা কলকাতায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
উৎসবের মরসুমে এমন প্রাণঘাতী বিপর্যয় রুখতে শহরের অন্যান্য বড় পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকেই একাধিক শহরের পুজো মণ্ডপ ঘুরে নিরপত্তা খতিয়ে দেখছেন প্রশাসনের অধিকারিকদের দল।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বন্দে মাতরম পত্রিকার সম্পাদক তথা সনাতনী ঐক্য মঞ্চের সভাপতি শঙ্কুদেব পান্ডা।