আকৃতি রাউতের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, স্নাতক মেয়ের চাকরির আশ্বাস
সুমন আদক, হাওড়া:
কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে হাওড়ার লিলুয়ার আনন্দনগর বিদ্যাসাগর পল্লির বাসিন্দা আকৃতি রাউতের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আর্থিক সাহায্য, মৃত ছাত্রীর স্নাতক দিদির চাকরির ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও নিয়মিত খোঁজখবর রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি থেকে নেমে কিছুটা পথ টোটোয় এবং বাকি রাস্তা হেঁটে আধিকারিকদের সঙ্গে এদিন আকৃতির বাড়িতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের হাতে ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও দু’লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সব মিলিয়ে পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। আকৃতির পরিবারের একজন স্নাতক মেয়ের চাকরির ব্যবস্থা করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সরকারের আওতাধীন সুযোগের মধ্যে গ্রুপ-ডি বা অ্যাটেনডেন্ট পদে চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি পরিবারের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে জেলাশাসককে আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের কার্ড পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের পাশে একজন আশাকর্মীকে যুক্ত করে নিয়মিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেন তিনি। এছাড়া স্থানীয় বিজেপি কর্মী এবং দুই বিধায়ককে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফেও যাতে প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়, সেজন্য পুলিশকে নির্দিষ্ট একজন আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'কথা কম, কাজ বেশি। পঁচিশ লক্ষ টাকার চেক দিলাম আর ওঁর শরীরের খবর নিলাম। যা যা করার আছে, স্থানীয় প্রশাসনকে বলে দিয়েছি। আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কী কী দায়িত্ব পালন করতে হবে, সেটাও বলে দিয়েছি।'
পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর সরকারের পক্ষে যতটা সম্ভব সাহায্য করা হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গও এদিন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মোজাফফরপুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জেলাশাসকের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এদিন ছ’টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাতের পর তাঁর আরও কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে পুজোর সময় দর্শনার্থীদের ঠাকুর দেখতে বেরোনোর পথে তাঁর যাতায়াতের কারণে যাতে যান চলাচল ও পুলিশি ব্যবস্থায় সমস্যা না হয়, সেকথা মাথায় রেখে দ্রুত এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। আকৃতির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনাতেও সরব হন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশের কিছু পোস্টে বিভিন্ন ঘটনার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এলাকার উন্নয়ন না হওয়ার কারণেই মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। স্থানীয় বিধায়কের তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানাতে বলেছিলেন এবং পুলিশ যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে বলেছিলেন।