ব্রেকিং

মন্দিরের পিছনে পড়েছিল সদ্যোজাত কন্যা! সপ্তমীর ভোরে দেবদূত হয়ে পৌঁছল পুলিশ

Sunday, 18 October 2026 at 20:29 Superadmin
Share
মন্দিরের পিছনে পড়েছিল সদ্যোজাত কন্যা! সপ্তমীর ভোরে দেবদূত হয়ে পৌঁছল পুলিশ
হাসপাতালে উদ্ধার করা শিশুকে নিয়ে পুলিশ আধিকারিক

অনুসূয়া সিনহা, পশ্চিম বর্ধমান: 


উৎসবের আবহে যখন চারদিকে ঢাকের বাদ্যি, আলোর রোশনাই আর দেবী বন্দনার আবেশ, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল সালানপুর। দুর্গাপুজোর সপ্তমীর ভোরে দেন্দুয়ার রামডি কালীমন্দিরের পিছনে পড়ে থাকা এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে উদ্ধার করল পুলিশ। জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিত্যক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতায় আপাতত প্রাণে বেঁচেছে একরত্তি। আর হাসপাতালের শয্যায় ভর্তি থাকা এক অপরিচিতা মায়ের মাতৃস্নেহের পরশে থামল তার ক্ষুধার্ত কান্না। উৎসবের আবহে এই ঘটনা যেমন শিউরে ওঠার মতো, তেমনই মানুষের মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তমীর ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সালানপুর থানায় একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। মন্দিরের পিছনে ঝোপের কাছে শিশুর কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে জানানো হয়। খবর পাওয়ামাত্রই তৎপর হয়ে ওঠেন থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তাঁর নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশের একটি দল।


সেখানে গিয়ে পুলিশকর্মীরা দেখতে পান, মাটিতে পড়ে রয়েছে সদ্যোজাত এক কন্যাসন্তান। শিশুটির নাড়ি তখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। অনুমান, জন্মের অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে সেখানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল। এমন অসহায় অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় কয়েকজন মহিলাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।


ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক তন্ময় মণ্ডলের নির্দেশে হাসপাতালে শুরু হয় শিশুটির চিকিৎসা। চিকিৎসক ও নার্সদের তৎপরতায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ক্ষুধার্ত শিশুটির কান্না কিছুতেই থামছিল না। সেই সময় মানবিকতার এক বিরল নজির তৈরি হয় হাসপাতালের মধ্যেই। সেখানে চিকিৎসাধীন এক মহিলা এগিয়ে এসে নিজের বুকের দুধ পান করিয়ে শিশুটির ক্ষুধা মেটান। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মাতৃত্বের সহজাত টানে এক অসহায় প্রাণের পাশে দাঁড়ান তিনি।


প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে (সিডব্লিউসি) অবহিত করেছে সালানপুর থানার পুলিশ। শিশুটিকে কে বা কারা সেখানে ফেলে রেখে গিয়েছে, তা জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।