Shuvendu Adhikari: আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে ১৬০০ কোটি, কুড়মি পর্ষদের জন্য ৫০ কোটি বরাদ্দ, পুরুলিয়া থেকে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বন্দে মাতরম, সংবাদ- আজ রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে করম উৎসব। এই দিনটিতে বিশেষ সাজে সেজে উঠেছে পুরুলিয়া। জঙ্গলমহলে আজ উৎসবের আমেজ। আজ পুরুলিয়ায় করম পুজো ঘিরে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানের মধ্যমণি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ তাঁর উপস্থিতিতে পুরুলিয়ার করম পুজো আজ অন্য মাত্রা পেয়েছে।
রাজ্যে পালা বদলের পরেই নয়া সরকারে দিকে তাকিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিল এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষগুলি। আজ তাঁদের মুখে হাসি ফোটালেন মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে একাধিক বার্তা দিলেন তিনি। কোটি কোটি টাকা উন্নয়নের পাশাপাশি আজ আদিবাসী আন্দোলনের কথাও শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। এমনকি কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় আপ্লুত পুরুলিয়াবাসী।
পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী এলাকায় বিশেষত কুড়মালি এবং রাজবংশী ভাষাভাষী মানুষজনের বাস। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি ভাষাকে রাজ্যের সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়েছিলেন। তবে এখন কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি চলছে রাজ্যজুড়ে।
এদিন সেই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, আগের সরকার কোনও প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। উল্টে আন্দোলনের সময় পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, ছাড় পায়নি শিশু ও বৃদ্ধরাও। আমরা কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করব।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সাঁওতালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে জায়গা দেয়নি তৎকালীন কংগ্রেস। অটল বিহারী বাজপেয়ীজি ছিলেন। আপনাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে যদি কেউ স্বীকৃতি দিয়ে থাকে তাহলে সেটা বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর উপরে ভরসা রাখুন। অবশ্যই সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি রাখব। কর্মীদের বিরুদ্ধে যত মামলা হয়েছে, সব প্রত্যাহার করা হবে। আর দ্রুত সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং দ্রুত শেষও হবেই।”
এদিন ইউসিসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধির জন্য কমিশন গড়েছি। অজিতবাবুরা ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, যেন তাদের ইউসিসির বাইরে রাখা হয়। সেই অনুযায়ী ইউসিসির বাইরেই রাখা হয়েছে কুড়মি সমাজকে। ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অধিকার আপনারা আমার কাছ থেকে বুঝে নেবেন।’
এমনকি আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর তাঁর হাতেই রয়েছে। আর সেই দফতরের জন্য মোট ১৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা পুরোপুরি পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে খরচ হবে। এছাড়া কুড়মি উন্নয়ন পর্ষদ সক্রিয় করার জন্য আগের সরকার যেখানে মাত্র ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল, বিজেপি সেখানে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।