Adani Arogya Mandir: ২০০০ শয্যা বিশিষ্ট ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ হাসপাতালের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর, বিশেষ সুবিধা পাবে দুঃস্থরা
বন্দে মাতরম, সংবাদ: নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর মেগা স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ (Adani Arogya Mandir)-এর শিলান্যাস ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন এবং আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলার জন্য এটা ঐতিহাসিক দিন। দেশের কোথাও গরিবদের জন্য এমন ব্যবস্থা নেই।’
তিনি আরও জানান, বাংলাকে পুর্নগঠনে ইচ্ছুক আদানি গোষ্ঠী। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে বাম ও তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে বললেন, ‘উনি শুধু করব করব বলেছেন আর ভাতা দিয়েছেন।’
নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২, বাংলা সিলিকন ভ্যালি টেক হাবের কাছে প্রায় ৫১ একর জমির উপর এই বিশাল স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রকল্প গড়ে উঠছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল। দুহাজার শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে একটি অত্যাধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও গবেষণা কেন্দ্রও থাকবে। গরীব, পিছিয়ে পড়া মানুষেরা এই হাসপাতাল থেকে বিশেষ সুবিধা পাবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও আদানি গোষ্ঠীর ঘোষণা অনুযায়ী, এই হাসপাতালের মোট ২,০০০ শয্যার মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় সাধারণ ও দুঃস্থ মানুষের জন্য এত বড়ো পরিসরে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা এক বিরল ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
এই মেগা প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠীর তরফ থেকে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। হাসপাতাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত পঠন-পাঠন ও গবেষণা কেন্দ্র চালু হবে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে আদানি গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গৌতম আদানির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি, পুত্র তথা আদানি এন্টারপ্রাইজেসের এমডি করণ আদানি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে গৌতম আদানি আশা প্রকাশ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ তার হারানো শিল্প ও সাংস্কৃতিক গৌরব ফিরে পাবে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের ‘ডবল ইঞ্জিন’ নীতির ফলে স্বাস্থ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে যে ব্যাপক গতি এসেছে, সেটিরও উচ্চ প্রশংসা করা হয়।
এই প্রকল্পটি রাজ্যের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।