ব্রেকিং

Anne Carson: সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক অ্যানে কারসন

Thursday, 8 October 2026 at 20:22 Superadmin
Share
Anne Carson: সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক অ্যানে কারসন
Anne Carson

বন্দে মাতরম সংবাদ, অটোয়া:  সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার কবি, অনুবাদক অ্যানে কারসন। সমসাময়িক বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিদগ্ধ কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং ক্লাসিক্যাল স্কলার অ্যানে। অ্যানে শুধুমাত্র একজন কবি নন, তিনি প্রবন্ধও লেখেন। প্রাচীন গ্রিক ও ল্যাটিন সাহিত্যের গবেষক। অনুবাদক হিসাবেও প্রসিদ্ধ এবছরের নোবেলজয়ী অ্যানে কারসনে। বৃহস্পতিবার নোবেল প্রদানকারী সংস্থা সুইডিশ অ্যাকাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করে। পুরস্কার হিসেবে তিনি পাবেন প্রায় ১২ লক্ষ মার্কিন ডলার।


১৯৫০ সালের ২১ জুন কানাডার টরন্টোতে জন্ম কারসন। তাঁর সাহিত্যকর্ম প্রথাগত পদ্য বা গদ্যের সীমানা ছাড়িয়ে এক অনন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। অ্যানে কারসনের লেখায় প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। তিনি প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের নানা উপাদান ও মিথকে অত্যন্ত আধুনিক ও মননশীল ভঙ্গিতে পুনর্নির্মাণ করেন। তাঁর রচনাশৈলী প্রথাগত ধারার বাইরে—কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা ও নাটকের রূপ একসঙ্গে মিশে থাকে। ভাষা ও বিন্যাসের দিক থেকে তাঁর কাজগুলো অত্যন্ত উদ্ভাবনী ও বুদ্ধিবৃত্তিক। 


১৯৯৮ সালে অটোবায়োগ্রাফি অফ রেড নামে পদ্যের ধাঁচে উপন্যাস লেখেন অ্যানে। সেখান থেকেই তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে পাঠকমহলে। প্রেম এবং গ্রিক শব্দ ‘ইরোস’ বা কামভাব নিয়ে লেখা তাঁর একটি বিখ্যাত গদ্য-প্রবন্ধের বই, যা তাঁকে সাহিত্যজগতে দারুণ পরিচিতি এনে দেয়। সাহিত্যকর্মে তাঁর অসাধারণ ও সাহসী অবদানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে বহু সম্মানীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ (২০০, গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজ, প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড, এবং সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার (২০২৬) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সমসাময়িক সাহিত্যে নতুন রূপ ও ভাষা সৃষ্টির ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য নাম।

সুইডিশ অ্যাকাডেমি মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে, কারসনের প্রায় সমস্ত সাহিত্যকর্ম গড়ে উঠেছে শব্দের ভাষারীতি ও ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণের প্রতি একজন ভাষাবিদের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়ার প্রতি একজন কবির আকুল বাসনার সংযোগস্থলে।


কবি নিজেও স্বীকার করেছেন, যেকোনও শব্দের উৎপত্তি বা ইতিহাসই হল তাঁর লেখার মূল সূচনাবিন্দু। এমনকি ক্লাসিক্যাল গ্রিক থেকে তাঁর অনুবাদগুলোকে স্রেফ অনুবাদ না বলে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মৌলিক সাহিত্যকর্ম হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাকাডেমি। ২০১৯ সালের তাঁর বিখ্যাত পারফর্মেন্স পিস ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’-তে এই উদ্ভাবনী শৈলীর চমৎকার প্রতিফলন দেখা যায়, যেখানে তিনি ইউরিপিডিসের গ্রিক ট্র্যাজেডির ‘হেলেন অব ট্রয়’ এবং আধুনিক পপ আইকন ‘মেরিলিন মনরো’-র জীবন কাহিনিকে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন।