বাড়ি থেকে উদ্ধার রাইফেল সংস্থার কর্মীর পচাগলা দেহ' মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য
রিয়া রায়, উত্তর ২৪ পরগনা:
বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হল ৪৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির পচাগলা দেহ। মৃতের নাম তন্ময় জানা। উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা থানার অন্তর্গত সন্তোষপুর মথুরা গ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তন্ময় রাইফেল সংস্থায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তন্ময় তাঁর স্ত্রী, চিকিৎসক সুতপা জানা, শাশুড়ি ও ছেলেকে নিয়ে একই বাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারে অশান্তি চলছিল বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। সম্প্রতি বাড়ির একটি ঘরে খারাপ হয়ে যাওয়া কম্পিউটার সারানোর জন্য সেটি আনতে গিয়েই বাবার নিথর দেহ দেখতে পায় তন্ময়ের ছেলে। দেহের পাশে রক্ত পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে সে মাকে খবর দেয়। এরপর তন্ময়ের স্ত্রী তাঁর দিদিদের ফোন করে বিষয়টি জানান। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে এসে ঘরের মধ্যে তন্ময়ের মৃতদেহ দেখতে পান। দেহটি পচাগলা অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় মৃত্যুর সঠিক সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অন্তত তিন থেকে চার দিন ধরে দেহটি ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। দেহের পাশে রক্ত পড়ে থাকার বিষয়টিও রহস্য আরও বাড়িয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পারিবারিক অশান্তির প্রসঙ্গ তুলে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। মৃতের স্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তন্ময়ের মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসতে পারে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার তদন্ত করছে আমডাঙ্গা থানার পুলিশ।