Bihar Flood: ভয়াবহ বন্যার কবলে বিহার, ১৫টি জেলায় ৪৯ লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
বন্দে মাতরম সংবাদ: ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কবলে বিহার (Bihar Flood)। ১৫টি জেলায় ৪৯ লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে পাটনা, ভোজপুর, সারণ, ভাগলপুর, বৈশালী, বেগুসরাই, বক্সার, সমস্তিপুর, মুঙ্গের, কাটিহার, লাখিসরাই, খাগাড়িয়া, পূর্ণিয়া, মাধেপুরা ও আরারিয়া।
গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে (Heavy Rain) বিপর্যস্ত বিহার। নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সোমবার ভোর ৬টার রেকর্ড অনুযায়ী, ভাগলপুরের সুলতানগঞ্জে গঙ্গা নদীর জলস্তর ছিল ৩৬.২১ মিটার, যা বিপদসীমার চেয়ে ১.৭১ মিটার বেশি। কোসি নদী বালতারা ও কুরসেলা, খাগরিয়ায় বুধী গণ্ডক, দিঘায় গঙ্গা, গান্ধী ঘাট, হাতিদহ, ভাগলপুর, কাহালগাঁও ও মুঙ্গের, শ্রীপালপুরের পুনপুন, বেনিবাদের বাগমতি এবং দারুলিতে ঘাঘরা বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বিহারের নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১৫টি জেলা। প্রায় ৪৯ লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতির মুখে। নেপালে (Nepal) ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গঙ্গা ও কোশির নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।
রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৫টি জেলায় প্রায় ৪৯.৩৬ লক্ষ মানুষ বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে পাটনা, ভোজপুর, সারণ, বৈশালী, ভাগলপুর, বেগুসরাই, বক্সার, সমস্তিপুর, মুঙ্গের, কাটিহার, লাখিসরাই, খাগাড়িয়া, পূর্ণিয়া, মাধেপুরা এবং আরারিয়া।
প্রশাসন বন্যাদুর্গত এলাকায় ১,২৬০টি কমিউনিটি কিচেন এবং ১৩টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। প্রায় ১১,০৬০ জনের জন্য আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১০টায় বাল্মীকি নগরে গণ্ডক নদীর ব্যারেজ দিয়ে ৯০,৬০০ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছিল। এই প্রবাহের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। বীরপুরের কোশী ব্যারেজে জল প্রবাহের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ১,৫১,০১৫ কিউসেক। চলতি বছরে গত ২০ জুলাই সেখানে সর্বোচ্চ ২,৫৫,৪২৫ কিউসেক জল প্রবাহিত হয়েছিল।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বিভিন্ন জেলায় রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ২৭টি ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ১০টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, সেপ্টেম্বরে এই পর্যন্ত রাজ্যে ১১১.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।