রেলের গেটে আটকে জনজীবন! গোলকনগর–নয়াগোপালগঞ্জে ফ্লাইওভারের দাবি
কুন্তল চক্রবর্তী, বনগাঁ:
রেলগেট বন্ধ হলেই থমকে যায় জনজীবন! কখনও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, কখনও জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছনোর তীব্র তাগিদ।এই দু'য়ের টানাপোড়েনে নিত্যদিন ভোগান্তির শিকার বনগাঁ পুরসভার অন্তর্গত গোলকনগর ও নয়াগোপালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলগেটের কারণে যাতায়াতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবিলম্বে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।
জানা গিয়েছে, গোলকনগর ও নয়াগোপালগঞ্জে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বনগাঁ স্টেশনমুখী রাস্তা এবং যশোর রোড ধরে যাওয়ার পথ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রেললাইন পারাপারের ক্ষেত্রে রেলগেটই হয়ে উঠেছে বড় প্রতিবন্ধকতা। ট্রেন চলাচলের সময় গেট বন্ধ থাকায় আটকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী, পড়ুয়া, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জরুরি কাজে বেরোনো সাধারণ মানুষ, সকলকেই এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এড়াতে কিছু মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত রেললাইন পারাপার করছেন। এতে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। পাশাপাশি অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও রেলগেটে আটকে পড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেলগেট বন্ধ হওয়া রেল চলাচলের নিরাপত্তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু তার পাশাপাশি মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিদিনের এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানে ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার।
তাঁদের দাবি, রেল ও রাজ্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বনগাঁ পুরসভা যৌথভাবে এলাকাটি পরিদর্শন করে যান চলাচল, রেলগেট বন্ধ থাকার সময় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি পর্যালোচনা করুক। প্রয়োজনীয় সমীক্ষার ভিত্তিতে দ্রুত ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।