কোন্নগরে রাজরাজেশ্বরী মন্দিরে ৫০১ প্রদীপের আলোয় মহালক্ষ্মীর আরাধনা, ১০৮ শস্যবীজে সমৃদ্ধির বার্তা
সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি:
ভোগের জৌলুস নয়, শাস্ত্রীয় আচার, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং সমৃদ্ধির প্রার্থনায় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বিশেষ মাত্রা পেল কোন্নগরের জগৎগুরু শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত রাজরাজেশ্বরী মহালক্ষ্মী মন্দির তথা সেবামঠ। হিন্দু শাস্ত্রবিধি মেনে গণেশ আরাধনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুজো। ৫০১টি প্রদীপ প্রজ্বলন, ১০৮ প্রকার শস্যবীজ ও চারাগাছের বিশেষ পূজায় উঠে আসে প্রকৃতি, কৃষি ও সমৃদ্ধির তাৎপর্য।
মন্দিরের পীঠস্থানে মহালক্ষ্মীর রাজরাজেশ্বরী রূপের আরাধনায় ছিল একাধিক বিশেষ আচার। সকালে দেবীরূপ ও যোগিনীদের পুজো এবং পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেকের পর বেনারসি ও ওড়নায় সাজানো হয় দেবীকে। সোনা, রুপো ও স্ফটিকের অলংকারে সজ্জিত মাতৃমূর্তির পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব পায় শ্রীযন্ত্র ও শঙ্খের পূজা। হয় হোম-যজ্ঞও। অন্নভোগ, ফলমূল, বস্ত্র, শাঁখা, সিঁদুর ও সোনার গহনা নিবেদন করা হয় দেবীকে।
শুধু আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আয়োজন। নারী ও কন্যাশিশুদের বিশেষ সম্মান এবং দানধ্যানের মাধ্যমে লক্ষ্মী আরাধনার সামাজিক তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। দুপুরে ভক্তদের বসিয়ে খাওয়ানো হয় মায়ের ভোগপ্রসাদ। শঙ্খধ্বনি, পুষ্প, ধূপ ও দীপের সুগন্ধি পরিবেশে সম্পন্ন হয় পুজো। আয়োজকদের দাবি, গোটা অনুষ্ঠানেই শব্দদূষণ ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় ছিল।
মন্দিরের প্রধান মহারাজ সচ্চিৎ স্বরূপ, শ্রীধর দ্বিবেদী এবং পণ্ডিত আচার্য রবিশঙ্কর দ্বিবেদী বলেন, “লক্ষ্মী বিনা এই জগৎ সংসার শ্রীহীন এবং অভুক্ত।” তাঁদের বক্তব্যে ধন-সম্পদের পাশাপাশি সংসারের শ্রী, সমৃদ্ধি ও অন্নের গুরুত্বও উঠে আসে।
পুজোর আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঋত্বিক মিশ্র, সৌরভ মিশ্র, রবি চৌবে, প্রভাত পাচৌরি-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শাস্ত্রীয় বিধান, ভক্তি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মেলবন্ধনে কোন্নগরের রাজরাজেশ্বরী মন্দিরের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পেল বিশেষ তাৎপর্য।