মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের সিলেবাসে এবার এআই, পদক্ষেপ এনসিইআরটির
বন্দে মাতরম সংবাদ
এনসিইআরটি বা ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ স্কুল শিক্ষার সিলেবাসে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে। এবার সিলেবাসে যুক্ত হতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি, অর্থাৎ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের সিলেবাসে এই বিষয়টি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর একেবারে গোড়ার কথা এবং এআই-এর বিভিন্ন টুলের ব্যবহার শেখানো হবে পড়ুয়াদের। শেখানো হবে ‘কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিং’-এ। ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পাঠ্যসূচি তৈরি করা হয়েছে বলে খবর এনসিইআরটি সূত্রে। এআই কী ভাবে কাজ করে, দৈনন্দিন জীবনে এর কী প্রভাব, এ সবই থাকবে এই মডিউলে। এনসিইআরটি-র এই নতুন সিলেবাসের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী না বানিয়ে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলা।
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা, সব জায়গাতেই এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে আজকের পড়ুয়ারা যাতে পিছিয়ে না পড়ে এবং ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শিখতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পড়ুয়াদের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিলেবাসটি দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়াদের এআই-এর মৌলিক ধারণা দেওয়া হবে। যেমন এআই কী, কীভাবে কাজ করে, দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার পরিচয় করানো। সহজ ভাষায় প্রোগ্রামিং বা কোডিং এবং তথ্য বা ডেটা কীভাবে সংগ্রহ করতে হয় তার ধারণা।
কম্পিউটার কীভাবে কোনও তথ্য থেকে শেখে তা সহজ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো। প্রযুক্তির ব্যবহারের ভালো ও খারাপ দিক এবং ডেটা প্রাইভেসি বা তথ্যের সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন করা। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে একটু গভীর ও ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হবে। উন্নত কোডিং ও অ্যালগরিদম যেমন পাইথন-এর মতো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে এআই মডেল তৈরি। প্রচুর ডেটা কীভাবে বিশ্লেষণ করতে হয় তা শেখা। রিয়েল-লাইফ বা বাস্তব জীবনের কোনও সমস্যার সমাধানের জন্য এআই অ্যাপ বা মডেল তৈরি করা। সেইসঙ্গে এআই সংক্রান্ত পেশায় কী কী সুযোগ আছে তা নিয়ে নির্দেশিকা দেওয়া। কেবল বই পড়ে মুখস্থ করা নয়, প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব, ডিজিটাল টুলস এবং ছোট ছোট প্রজেক্টের মাধ্যমে হাতের কলমে শেখানো হবে।
পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে সহজে বিষয়গুলো পড়াতে পারেন, তার জন্য এনসিইআরটি বিশেষ প্রশিক্ষণ বা ট্রেনারের ব্যবস্থা করবে। এই শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে এআই-এর জ্ঞান থাকলে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে এগিয়ে থাকা যাবে। শিক্ষার্থীদের বিচারবুদ্ধি ও যুক্তিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।