Nagaland: নাগাল্যান্ডে বিষমদ পান করে মৃত ১৯, সিট গঠন করে তদন্ত , গ্রেফতার ১৯
বন্দে মাতরম, সংবাদ: নাগাল্যান্ডে বিষমদ পান করে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। রাজ্যের দুটি পৃথক জেলায় মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে বিষাক্ত মদ বা স্পুরিয়াস লিকার পান করার এতগুলি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, নাগাল্যান্ডের মোককচুং জেলায় ৮ জন এবং তুয়েনসাং জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিষমদ পান করার পর থেকেই তীব্র মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, বমি ভাব এবং শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অসুস্থতা অনুভব করতে থাকে তারা। পরবর্তীতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তারা।
এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। অবৈধ এবং ভেজাল মদের উৎস ও পুরো সরবরাহ চেইন খুঁজে বের করতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই বুংলাং চ্যাং-এর নেতৃত্বে এই তদন্ত দল কাজ করছে।
মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করতে এবং মদে বিষাক্ত কোনও রাসায়নিক যেমন মিথানল মেশানো ছিল কি না তা জানতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটি গুয়াহাটিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিষমদ কাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেইসঙ্গে ৩,০০০ বোতল অবৈধ মদ বাজেট করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নাগাল্যান্ডে ১৯৯০ সাল থেকে ‘নাগাল্যান্ড সম্পূর্ণ মদ্যপান নিষিদ্ধকরণ আইন’ (NLTP Act, 1989) বলবৎ রয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যটি আইনগতভাবে একটি ‘ড্রাই স্টেট’ বা মদ্যপান নিষিদ্ধ এলাকা। তা সত্ত্বেও কীভাবে চোরাপথে এমন বিষাক্ত মদ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে যেকোনও অজানা, লেবেলবিহীন বা সন্দেহজনক মদ পান করা থেকে বিরত থাকার কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, মদ পানের পর কোনও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।